শীতল হাওয়ার চলনবিলেও নির্বাচনি উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে পাবনার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন পাবনা-৩ এ। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রচারের তীব্রতা। সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ ও সামাজিক আয়োজন ঘিরে প্রার্থী ও সমর্থকদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। ভোটারদের ভাষায়, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এ আসনে লড়াই মূলত ত্রিমুখী হয়ে উঠেছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাঠের রাজনীতিতে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও স্বতন্ত্র ও জামায়াত প্রার্থী শক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের ভূমিকা এবারের ফল নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। দীর্ঘদিন ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ না পাওয়ায় তরুণদের মধ্যে উৎসাহ বাড়তি। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।
নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পাবনা-৩ আসনের চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮২ হাজার ৮০২ জন। তিন উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার চাটমোহরে। ভোটারদের ধারণা, ফরিদপুর উপজেলায় ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন কিছুটা এগিয়ে থাকতে পারেন। ভাঙ্গুড়ায় দাঁড়িপাল্লার প্রতীকের জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ আলী আছগার এবং চাটমোহরে ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী কে এম আনোয়ারুল ইসলাম প্রভাব বিস্তার করতে পারেন।
এ আসনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী পাবনা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ আলী আছগার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য কে এম আনোয়ারুল ইসলাম। অতীতে বেশির ভাগ সময় ভাঙ্গুড়া উপজেলার স্থানীয় প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হলেও দীর্ঘদিন চাটমোহর উপজেলা থেকে কোনো সংসদ সদস্য না থাকায় এবার ফলে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিএনপির প্রার্থী কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন বলেন, এই আসন ধানের শীষের শক্ত ঘাঁটি এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের অপপ্রচার সত্ত্বেও ভোটাররা ধানের শীষেই আস্থা রাখবে। জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ আলী আছগার বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায় এবং চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের প্রত্যাখ্যান করবে, জামায়াতের পক্ষে ভোটবিপ্লব ঘটবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী কে এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এলাকার বাইরের হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন রয়েছে এবং তার সমর্থকদের হয়রানির অভিযোগও তোলেন তিনি।
ভোটের মাঠে নানা সমীকরণ ও অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্য দিয়ে পাবনা-৩ এ প্রতিযোগিতা দিন দিন তীব্র হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কোন প্রতীক ভোটারদের আস্থা পায়, সেটিই এখন চলনবিলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন