ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই, ২০২৬

মাছ ধরার আনন্দে মেতেছে শিশুরা

দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬, ০৬:৪৫ এএম

প্রযুক্তি আর যান্ত্রিকতার এই যুগে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী অনেক দৃশ্যই আজ বিলুপ্তপ্রায়। তবে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার নিভৃত পল্লীতে দেখা মিলল এক মনোমুগ্ধকর ও শৈশবের নির্মল আনন্দের দৃশ্য। টানা কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিপাতে মাঠজুড়ে পানি জমায় কৃষকের হাল চাষের পেছনে জাল ও পাত্র হাতে মাছ ধরতে মেতে উঠেছে গ্রামের শিশুরা।

গত মঙ্গলবার সকালে উপজেলার শিবরামপুর, পলাশবাড়ী ও শতগ্রাম পাল্টাপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় এই আনন্দঘন চিত্র চোখে পড়ে। আধুনিক চাষাবাদের দাপটে যখন পাওয়ার টিলার বা ট্রাক্টরের ব্যবহার বেড়েছে, সেখানে হাতেগোনা কিছু কৃষক এখনো ঐতিহ্যবাহী লাঙল-জোয়াল দিয়ে হালচাষ করছেন। আর কৃষকের ঠিক পেছনেই একদল শিশু মেতেছে মাছ ধরার উৎসবে। লাঙলের ফলায় জমি উল্টে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাদা থেকে বেরিয়ে আসছে কই, শিং, মাগুর, টেংরা ও পুঁটিসহ নানা প্রজাতির দেশি মাছ। সেগুলো ধরতে শিশুদের মধ্যে শুরু হয় এক বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মুজাহার আলী জানান, বর্ষাকালে হালের পেছনে মাছ ধরার এই দৃশ্য গ্রাম-বাংলার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু যান্ত্রিক চাষাবাদ এবং খাল-বিলের মাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এমন দৃশ্য এখন সচরাচর দেখা যায় না। তবে আধুনিকতার ভিড়েও বীরগঞ্জের এই পল্লীতে সেই চিরচেনা রূপটি যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

মাছ ধরতে আসা শিশুদের চোখেমুখে ছিল বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস। তাদের কাছে এটি কেবল মাছ ধরাই নয়, বরং প্রকৃতির সাথে একাত্ম হয়ে শৈশব কাটানোর অনন্য এক অভিজ্ঞতা। শিশুদের এই প্রাণবন্ত ছোটাছুটি দেখে পথচারী ও স্থানীয়রা ফিরে গেছেন নিজেদের ফেলে আসা অতীতে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, এই দৃশ্য আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য ও প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের গভীর সম্পর্কের প্রতীক। এই শৈশবের নির্মল আনন্দ ধরে রাখতে এবং দেশি মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষায় সবার সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।