বগুড়ার ধুনটে সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষুধার্ত ও হিংস্র শিয়ালের উপদ্রব উদ্বেগজনক হারে বেড়ে গেছে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর দলবেঁধে লোকালয়ে ঢুকে হাঁস-মুরগি শিকার করার পাশাপাশি পথচারীদের ওপরও আক্রমণ চালাচ্ছে শিয়াল। এমনকি দিনের বেলাতেও গৃহপালিত পশুর ওপর হামলার ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, গত এক মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৮-৯ জন পথচারী ও কৃষক শিয়ালের কামড়ে আহত হয়েছেন। গত সপ্তাহে ফরিংহাটা এলাকার বাসিন্দা ও গণমাধ্যমকর্মী মাওলানা রবিউল ইসলাম রাতে উপজেলা শহর থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে শিয়ালের একটি দল তার গাড়ির সামনে এসে দাঁড়ালে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন।
গত ৩ এপ্রিল দুপুরে পৌর শহরের জিঞ্জিরতলা এলাকায় বাচ্চু মিয়া নামের এক কৃষক ভুট্টাক্ষেতে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে শিয়ালের কামড়ে আহত হন। এতে পুরো উপজেলাজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় ভুট্টা চাষ বৃদ্ধি পাওয়ায় শিয়ালগুলো সহজেই আশ্রয় পাচ্ছে। প্রাকৃতিক খাদ্যের অভাবে সুযোগ বুঝে শিয়াল লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। অনেকেই লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও চতুর শিয়াল আক্রমণ করে দ্রুত ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে পড়ছে। এমনকি কুকুর তাড়া করলে উল্টো কুকুরের ওপরও আক্রমণ করছে।
চৌকিবাড়ী ইউনিয়নের পাঁচথুপী এলাকার বাসিন্দা হাফিজুল্লাহ খন্দকার জানান, ক্ষুধার্ত শিয়াল বাড়িতে ঢুকে হাঁস-মুরগি নিয়ে যাচ্ছে। খোয়াড় বন্ধ করে রাখার পরও কৌশলে দরজা খুলে শিকার নিয়ে যাচ্ছে।
মথুরাপুর ইউনিয়নের গৃহিণী সুমি খাতুন বলেন, “আমরা নিজেদের জন্য হাঁস-মুরগি পালন করি। কিন্তু শিয়ালের উপদ্রবে এখন তা লালন-পালন করা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।”
ধুনট উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন টিক্কা বলেন, সাধারণত খাদ্যের অভাব দেখা দিলে শিয়াল লোকালয়ে আসে। আত্মরক্ষা ছাড়া শিয়াল সাধারণত মানুষের ওপর হামলা করে না। তবে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হলে আচরণ আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মির্জা শরিফুল ইসলাম বলেন, শিয়ালের কামড়ে আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিষেধক নিতে হবে।
বর্তমানে হাসপাতালে ভ্যাকসিন না থাকলেও জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্তদের দ্রুত হাসপাতালে এসে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।


