ঢাকা সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬

কুমিল্লায় প্রেমিকের ছুরিকাঘাতে প্রেমিক খুন, কিশোরীসহ গ্রেপ্তার ২

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২৬, ০৩:১০ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে প্রেমিককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে ১৫ বছর বয়সি এক কিশোরী ও তার সঙ্গে থাকা এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৯ জুন) ভোরে উপজেলার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সাইয়েদ আবদুল্লাহ সিয়াম (২২) লক্ষ্মীপুর গ্রামের এনামুল হকের ছেলে। চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি মো. আরিফ হোছাইন দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে ফেসবুকের মাধ্যমে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার এক কিশোরীর সঙ্গে সিয়ামের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা একাধিকবার ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অবস্থান করেন। এ সময় কিশোরী গর্ভবতী হন। পুলিশ বলছে, পরে ওই গর্ভের সন্তান নষ্ট করা হয়। এ ঘটনার পর থেকে কিশোরী সিয়ামকে বিয়ের জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের আশ্বাসে রোববার রাতে কিশোরী তার এক নিকটাত্মীয় আরিয়ান খাঁন মাহিদকে সঙ্গে নিয়ে সিয়ামের বাড়িতে আসেন। তারা সিয়ামের নানার একটি ভবনে ওঠেন, যেখানে সিয়াম একাই থাকতেন।

ভোরের দিকে তাদের মধ্যে বিয়ে ও গর্ভপাতের বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে কিশোরী সঙ্গে থাকা একটি ছুরি দিয়ে সিয়ামের পেটে আঘাত করেন বলে পুলিশের দাবি। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বাবা এনামুল হক বলেন, ভোরে স্বজনদের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি ছেলের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। তিনি বলেন, ‘যে ভবনে সিয়াম থাকত, সেটি আমার শ্বশুরের। সেখানে সে একাই থাকত। ওই ছেলে-মেয়ে কখন এসেছে, তা আমি জানতাম না।’

ওসি মো. আরিফ হোছাইন বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিয়ে ও গর্ভপাতের বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কিশোরী ও তার সঙ্গে থাকা আরিয়ান খাঁন মাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

পুলিশ জানায়, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।