ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মধ্যম স্বরাজপুর গ্রামে আকস্মিক টর্নেডোর আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুর্যোগে অন্তত ৩০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক ঘরবাড়ির চাল উড়ে গেছে, কাঁচা ও আধাপাকা বসতঘর ভেঙে পড়েছে। পাশাপাশি অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়ায় এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ টর্নেডো আঘাত হানে মধ্যম স্বরাজপুর গ্রামে। প্রায় এক মিনিট স্থায়ী এ দুর্যোগে বেশ কয়েকটি বসতঘরের টিনের চাল উড়ে গিয়ে ৩০০ থেকে ৪০০ গজ দূরে ছিটকে পড়ে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন জয়নাল আবদিন, নূর নবী, কামাল উদ্দিন, চেমনা খাতুন, মো. আলম, হোসনে আরা, আবুল হোসেন, বিবি আমেনা, শহিদুল ইসলাম, মো. রাজ্জাক, আমির হোসেন, মো. হারুন, মো. এনামুল হক, খুরশীদ আলম, আবদুর শুক্কুর, ওমর ফারুক, মো. শহিদ, মো. নাহিদ এবং মোহাম্মদ ফারুকসহ আরও কয়েকটি পরিবার।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিগ্যান চাকমা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইউছুপ মিয়া, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন বাবলু, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক খুরশিদ আলম ভূঞা, মতিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আমিন উদ্দিন দোলন এবং মঙ্গলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দাউদুল ইসলাম মিনার। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩০টি পরিবারের মধ্যে জরুরি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ঘরবাড়ি মেরামতের জন্য পরিবারভেদে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
মতিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আমিন উদ্দিন দোলন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের পর উপজেলা প্রশাসনকে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করার অনুরোধ করা হয়েছে।
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক খুরশিদ আলম ভূঞা বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুকে অবহিত করা হয়েছে। তাঁর পক্ষ থেকে প্রাথমিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন বাবলু বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিগ্যান চাকমা বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে কয়েকটি বাড়ির একাধিক ঘরের চাল টর্নেডোতে উড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট তহবিল থেকে পরিবারভেদে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

