ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাট জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, জেলার তিনটি আসনেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। প্রতিটি আসনেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে।
লালমনিরহাট-১ (সংসদীয় ১৬) আসনে অত্যন্ত উত্তেজনাকর লড়াই শেষে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মো. হাসান রাজীব প্রধান। তিনি 'ধানের শীষ' প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১,৩৬,৮৬৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আনোয়ারুল ইসলাম রাজু 'দাঁড়িপাল্লা' প্রতীকে পেয়েছেন ১,২৯,৫৭২ ভোট। মাত্র ৭,২৯১ ভোটের ব্যবধানে এই আসনে জয় নিশ্চিত করে বিএনপি।
লালমনিরহাট-২ (সংসদীয় ১৭) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মো. রোকন উদ্দীন বাবুল। 'ধানের শীষ' প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১,২৩,৪৯৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. ফিরোজ হায়দার 'দাঁড়িপাল্লা' প্রতীকে পেয়েছেন ১,১৭,২৫২ ভোট। এই আসনেও দুই দলের মধ্যে সমানে সমান লড়াই লক্ষ করা গেছে।
লালমনিরহাট-৩ (সংসদীয় ১৮) আসনে নিজের জনপ্রিয়তা আবারও প্রমাণ করলেন বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নেতা আসাদুল হাবিব দুলু। 'ধানের শীষ' প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১,৩৯,৬২১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আবু তাহের 'দাঁড়িপাল্লা' প্রতীকে পেয়েছেন ৫৬,২৪৪ ভোট। সদর আসনে ৮৩,৩৭৭ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছেন তিনি।
লালমনিরহাটের এই তিনটি আসনেই জাতীয় পার্টি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াইয়ে ফিরতে পারেননি।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা এইচ এম রকিব হায়দার জানান, বেসরকারিভাবে এই জেলার তিনটি আসনেই ধানের শীষের প্রার্থীরা জয় লাভ করেছেন। ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

