পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় মোবাইলে ফ্রি ফায়ার গেম খেলাকে কেন্দ্র করে রাকিব কাজী (২২) নামের এক যুবককে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। আজ বুধবার (২২ জুলাই) উন্নত চিকিৎসার জন্য আহত রাকিবকে খুলনা মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়েছে।
আহত রাকিব কাজী উপজেলার ২ নম্বর পত্তাশী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চরনী পত্তাশী গ্রামের মৃত আকরাম কাজীর পুত্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে পত্তাশী ইউনিয়নের কাজীপাড়া এলাকায় আকরাম কাজীর দোকানের সামনে বসে আহত রাকিব কাজী ও অভিযুক্ত রাতুল মোল্লাসহ পাঁচ থেকে সাতজন একত্রে বসে ফ্রি ফায়ার গেম খেলতেছিল। একপর্যায়ে খেলার মধ্যে তাদের কথাকাটাকাটি হয় এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
খেলায় অংশ নেওয়া প্রত্যক্ষদর্শী রিফাত কাজী জানান, খেলার মধ্যে ওদের সাথে যা ঝামেলা হয়েছিল তা ওইখানেই আমরা সবাই মিলে সমাধান করে দিয়েছিলাম। পরবর্তীতে যা হয়েছে তা খুবই দুঃখজনক।
গুরুতর আহত রাকিব কাজী জানান, আমরা সবাই মিলে গতকাল বিকালে গেম খেলতেছিলাম। এ অবস্থায় আমার সাথে রাতুল খুব খারাপ ব্যবহার করে। এমনকি আমার গায়ে হাত তোলে। ওই ঘটনা ওখানেই সমাধান হয়ে গেছিল। পরবর্তীতে রাতুলের বাবা মানিক মোল্লা (৫০), তার স্ত্রী (৪০) এবং তার চাচাতো ভাই বাপ্পি মোল্লা (২৪) মিলে আমাকে রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে মারতে আসে। আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই রাতুল আমাকে মারতে থাকে এবং ওর বাবা মানিক মোল্লা আমার পেটে ছুরি ঢুকিয়ে দেয় এবং হাতে পোজ দিয়ে হাত কেটে দেয়। এ সময় ওর মা আমাকে জাপটে ধরলে আমি অজ্ঞান হয়ে পরে যাই। পরবর্তীতে চোখ খুলে দেখি আমি হাসপাতালে।
জিয়ানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত ডাক্তার আকাশ সাহা জানান, রোগীর পেটের আঘাতটি খুব গুরুতর। স্টামিং ইনজুরি ডিপ হওয়ার কারণে তাকে খুলনা মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত রাতুল মোল্লার ফোন নম্বারে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ফোন কলটি রিসিভ করেছে তার চাচাতো ভাই পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তি। রাতুলের কথা জিজ্ঞেস করলে সে উত্তর দেন রাতুল ফোনের কাছে নেই। এ কথা বলে ফোনটি তিনি কেটে দেন।
জিয়ানগর থানার ওসি মো.মোহাব্বত খান বলেন, আমরা মারামারির ঘটনাটি শুনতে পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। আহত রাকিবের পক্ষের সাথে রাস্তায় পুলিশের দেখা হলে তারা মৌখিকভাবে অভিযোগ দিয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

