রাজশাহীর তানোর পৌর এলাকার জারা ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইনের কারণে দিনভর ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়। তেল বিক্রিতে কোনো নিয়মনীতি না থাকায় পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যায়।
এতে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, যাত্রীবাহী বাস ও কৃষিপণ্যবাহী অটোভ্যান আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ে জনসাধারণ। এ ছাড়া তেল বিতরণে বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয় ভূমিকার অভিযোগও উঠেছে।
জানা গেছে, সোমবার সকাল থেকে তানোর পৌর এলাকার কাশির বাজারের উত্তরে অবস্থিত জারা ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল সরবরাহের খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত থেকেই মোটরসাইকেল চালকেরা লাইনে দাঁড়াতে শুরু করেন।
ফিলিং স্টেশন থেকে জিওল চাঁদপুর মোড় পর্যন্ত দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তেল না পাওয়ায় মোটরসাইকেল চালকেরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং বিভিন্ন যানবাহনের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে জিওল মোড় থেকে কাশির বাজার পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়।
কৃষিপণ্যবাহী অটোভ্যান চালক কামাল ও সাইফুলসহ কয়েকজন জানান, সকালে আলুর বস্তা নিয়ে হিমাগারে যাওয়ার কথা থাকলেও যানজটের কারণে আটকা পড়েছেন। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত রাস্তায় অপেক্ষা করতে হয়েছে তাদের। এতে আয়-রোজগারে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা গাফফার ও আলী হোসেনসহ অনেকে জানান, এর আগেও তেল সরবরাহ হয়েছে, তবে এত বড় যানজট হয়নি। মূল সড়ক বন্ধ থাকায় বিকল্প হিসেবে গ্রামের ভেতরের সরু রাস্তায় যানবাহন চলাচল শুরু করলে সেখানেও যানজট তৈরি হয়। এতে নারী ও শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১২টার পর থেকেই মোটরসাইকেলের লাইন শুরু হয়। অনেক মোটরসাইকেলে তেল থাকা সত্ত্বেও পুনরায় তেল নিতে আসা এবং ডিজেলের জন্য শ্যালো মেশিন নিয়ে লাইনে দাঁড়ানোয় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। মিনিটে মিনিটে হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
সুষ্ঠুভাবে তেল বিতরণের জন্য ট্যাগ অফিসার ও পুলিশ মোতায়েন থাকলেও তারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। কখনো ১০ মিনিট তেল বিতরণ করে আবার ২০ মিনিট বন্ধ রাখার ঘটনাও ঘটেছে।
জনসাধারণের দাবি, উপজেলায় থাকা চারটি ফিলিং স্টেশনে একসঙ্গে তেল সরবরাহ করলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। একই সঙ্গে পরিচয়পত্র যাচাই করে তেল বিক্রির ব্যবস্থাও চালু করার দাবি জানান তারা। অভিযোগ রয়েছে, কিছু মোটরসাইকেলচালক তেল নিয়ে পরে বেশি দামে বিক্রি করছেন।
পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছে, পর্যাপ্ত তেলের সরবরাহ না থাকায় এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে তেল বিতরণেও কোনো সমস্যা থাকবে না।
ট্যাগ অফিসাররা বলেন, এটি বৈশ্বিক প্রভাবজনিত সাময়িক সমস্যা। সবাইকে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। অতিরিক্ত চাহিদা ও আতঙ্ক থেকেই বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে।


