ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

বিড়ালকে বাঁচাতে গিয়ে গৃহবধূর মৃত্যু

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ২৪, ২০২৬, ০৫:০২ এএম
ছবিঃ সংগৃহীত

গৃহবধূ বন্যা কস্তার কোনো সন্তান ছিল না। শখের পোষা বিড়াল নিয়েই সময় কাটত তার। সন্তানের মতো আদর-যত্নে আগলে রাখতেন প্রিয় বিড়ালটিকে।

সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে ঘুম থেকে উঠে বিড়ালটিকে ঘরের ভেতর দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বাসায় না পেয়ে তিনি বিড়ালটিকে খুঁজতে ছাদে যান এবং সেটিকে ছাদের কার্নিসে দেখতে পান।

বিড়ালটিকে ওপরে তোলার চেষ্টা করেন বন্যা, কিন্তু সফল হননি। পরে নিজেই ঝুঁকি নিয়ে কার্নিসে নামেন। এ সময় অসাবধানতাবশত পা পিছলে তিন তলার ছাদের কার্নিস থেকে নিচে পড়ে যান।

প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বন্যা কস্তা নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল ইউনিয়নের আদগ্রামের সুশান্ত কস্তার মেয়ে এবং একই ইউনিয়নের বোর্ণী টুনিপাড়ার শোভন পালমার স্ত্রী।

বন্যার ফুফু লাভলী কস্তা জানান, বন্যা ঢাকার শাহজাদপুরে স্বামীর সঙ্গে তিনতলার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। তার সবচেয়ে প্রিয় ছিল একটি পোষা বিড়াল। ভোরে ঘরের ভেতর বিড়ালটিকে না পেয়ে তিনি ছাদে খুঁজতে যান। সেখানে বিড়ালটিকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে দেখে সেটিকে নামাতে গেলে পা পিছলে নিচে পড়ে যান এবং গুরুতর আহত হন।

পরে তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঢাকায় তার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল বোর্ণী খ্রিষ্টান কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হবে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানার ওসি আব্দুস ছালাম বলেন, “ঢাকায় বন্যা কস্তার মৃত্যুর সংবাদটি তিনি লোকমুখে শুনেছেন। এ বিষয়ে এখনো কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।”