× UCB Sticker Card
শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম

মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ। ছবি : সংগৃহীত

মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ। ছবি : সংগৃহীত

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস ও জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগে এনে বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে একদল নিয়োগপ্রত্যাশী। একই সঙ্গে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেছেন তারা।

রোববার (১১ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক অধিদপ্তরের প্রধান ফটকে এ কর্মসূচি শুরু করেন তারা। দুপুর ১২টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় তারা নানা স্লোগানে পরীক্ষায় অনিয়ম, জালিয়াতি ও প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে জানিয়ে বাতিলের দাবি করছেন।

তাদের হাতে ‘প্রশ্ন ফাঁস চলবে না, চলবে না’; ‘প্রশ্ন ফাঁস হটাও, শিক্ষা বাঁচাও’; ‘মেধাবীরা বঞ্চিত কেন, ডিপিই জবাব চাই’; ‘পরিশ্রমের মর্যাদা নেই’ প্রভৃতি লেখাসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবি হলো—

১. সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে দ্রুত পরীক্ষা নিতে হবে।

২. সকল চাকরির পরীক্ষা ঢাকায় নিতে হবে এবং প্রতিটি কেন্দ্রে ডিভাইস চেকার ও নেটওয়ার্ক জ্যামার রাখতে হবে।

৩. স্বতন্ত্র কমিটি গঠন করতে হবে এবং তার আওতায় সকল পরীক্ষা নিতে হবে। একই দিনে একই সময়ে একাধিক পরীক্ষা নেওয়া যাবে না।

৪. যেসব প্রতিষ্ঠানে বিগত সালে পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের রেকর্ড আছে, তাদের কোনোভাবেই প্রশ্ন প্রণয়ন করার দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।

৫. প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার তথ্য প্রমাণিত হলে জড়িত সবাইকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং প্রশ্ন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে স্বেচ্ছায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে।

জানা যায়, গত ৯ জানুয়ারি বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ৬১ জেলায় (পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা বাদে) একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি। পরীক্ষার কয়েক দিন আগে থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন ফেসবুকে শেয়ারও করেন।

পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষার দুদিন আগে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নের একটি অংশ থেকে হুবহু কয়েকটি প্রশ্ন পরীক্ষায় এসেছে। এতে প্রশ্ন ফাঁসের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। ২৫ ডিসেম্বর প্রশ্নপত্র জেলা পর্যায়ে পাঠিয়ে দিয়ে তার প্রায় দুই সপ্তাহ পর পরীক্ষা নেওয়ায় চক্রের হাতে প্রশ্নপত্র চলে গেছে বলে অভিযোগ তাদের।

অন্যদিকে এ পরীক্ষা ঘিরে সক্রিয় হয়ে ওঠে ‘ডিভাইস পার্টি’। তারা পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে মোটা অঙ্কের অর্থ চুক্তির মাধ্যমে ডিভাইসের সহায়তা দিয়েছেন। এ চক্রটি চুক্তিবদ্ধ পরীক্ষার্থীকে ডিভাইস সরবরাহ করে এবং পরীক্ষা শুরুর পরপরই প্রশ্ন ম্যানেজ করে উত্তর বলে দেয়। পরীক্ষার্থী ডিভাইসে উত্তর শুনে পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে আসেন।

পরীক্ষার্থীরা জানান, উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে ডিভাইস পার্টি ব্যাপকভাবে সক্রিয় ছিল। এ নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর উত্তরের জেলাগুলোতে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা কিছুটা তৎপর ছিল। এ কারণে ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষা দেওয়া শতাধিক চাকরিপ্রার্থীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছেন। গাইবান্ধায় ৫৩ জন, নওগাঁয় ১৮, দিনাজপুরে ১৮, কুড়িগ্রামে ১৬, রংপুরে দুজনসহ শতাধিক পরীক্ষার্থী জালিয়াতি করে ধরা পড়েছেন।

তবে অসংখ্য জালিয়াত পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও কক্ষ পরিদর্শকদের নজরদারি এড়িয়ে পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে গেছেন। কোথাও কোথাও কক্ষ পরিদর্শকরাও এ চক্রের সঙ্গে যোগসাজশ করে জালিয়াতিতে সহযোগিতা করেছেন। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য জেলায় পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতা দেখাই যায়নি। ফলে সেখানে নির্বিঘ্নে জালিয়াতি-অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ চাকরিপ্রার্থীদের।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার দুই ধাপ মিলিয়ে মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০টি। সে হিসাবে গড়ে প্রতিটি পদের বিপরীতে লড়াই করেন প্রায় ৭৫ চাকরিপ্রার্থী।

প্রথম ধাপে (রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগ) ১০ হাজার ২১৯টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯টি। দ্বিতীয় ধাপে (ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ) ৪ হাজার ১৬৬টি পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১টি। তবে ঠিক কতজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন এবং কত পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত করে জানায়নি অধিদপ্তর।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!