ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই, ২০২৬

কাল এইচএসসি পরীক্ষা শুরু, নজরদারিতে সিসিটিভি-বডি ওর্ন ক্যামেরা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ১, ২০২৬, ০৬:১০ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে। এবার পরীক্ষার্থী, পরীক্ষাকেন্দ্র ও অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—সবই বৃদ্ধি পেয়েছে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এবার নকল প্রতিরোধে সব পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। এই সেলের মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্তের যেকোনো কেন্দ্রের পরীক্ষা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার (১ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষ থেকে জানান হয়,  কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। এতে পরীক্ষাকেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সম্ভাবনা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মাহদী আমিন মূল তথ্য তুলে ধরে জানান, এবার ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। মোট পরীক্ষাকেন্দ্র ২ হাজার ৬৯৭টি এবং অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৯ হাজার ৪৩৯টি।

তিনি আরও জানান, যেদিন পরীক্ষা থাকবে না, সেদিন সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চলবে। এছাড়া নকলের জন্য পরিচিত কিছু কেন্দ্র বাতিল করা হয়েছে। তবে হাওর, পার্বত্য অঞ্চল ও দুর্গম চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কিছু কেন্দ্র বহাল রাখা হয়েছে। সেভেন্থ ডে অ্যাডভান্টিস্ট সম্প্রদায়ের পরীক্ষার্থীদের জন্য শনিবারের পরীক্ষা বিশেষ ব্যবস্থায় সূর্যাস্তের পর অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি জানান, ২০২৫ সালে পরীক্ষার্থী (নিয়মিত ও অনিয়মিত) ছিল ১০ লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৮ জন; এর মধ্যে ছাত্র ৪ লাখ ৯১ হাজার ২৮৪ জন এবং ছাত্রী ৫ লাখ ৬৪ হাজার ১১৪ জন। ২০২৬ সালে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জনে। এর মধ্যে ছাত্র ৪ লাখ ৯২ হাজার ৪০৬ জন এবং ছাত্রী ৫ লাখ ৭৭ হাজার ৩০৮ জন। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থী বেড়েছে ১৪ হাজার ৩১৬ জন।

এ ছাড়া ২০২৫ সালে অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল ৪ হাজার ৮০৮টি, যা ২০২৬ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৮৫টিতে। প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ৭৭টি।

অন্যদিকে ২০২৫ সালে পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল ১ হাজার ৬০৫টি, আর ২০২৬ সালে তা বেড়ে ১ হাজার ৬২৬টিতে পৌঁছেছে। এবার কেন্দ্র বেড়েছে ২১টি।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপদেষ্টা আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, এবার পাবলিক পরীক্ষা আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং নতুন আইনে কড়াকড়ি বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে আগের তুলনায় পরীক্ষা আরও সুষ্ঠু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, খাতা মূল্যায়নকারীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আগামী বছরের এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি এগিয়ে আনা হয়েছে এবং রুটিন এরই মধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী বছর কারিকুলামে পরিবর্তন আনা হবে, যেখানে ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।