ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

ভাড়া না বাড়িয়েও রেলওয়ের আয় বেড়েছে ২২১ কোটি টাকা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

গত ১০ বছর ধরে যাত্রীভাড়া অপরিবর্তিত থাকা সত্ত্বেও ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের আয় আগের অর্থবছরের তুলনায় ২২১ কোটি টাকা বেড়েছে। একই সঙ্গে আয়-ব্যয়ের ব্যবধানও কমেছে, যা রেলওয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সংস্থাটির মোট আয় হয়েছে ২ হাজার ৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরে এ আয় ছিল ১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বিভিন্ন উদ্যোগ ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার ফলে এ আয় বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি আয় বেড়েছে যাত্রী পরিবহন খাতে। এ খাতে আগের অর্থবছরের তুলনায় অতিরিক্ত ২৫৬ কোটি টাকা আয় হয়েছে। তবে ইঞ্জিন সংকটের কারণে মালামাল পরিবহন খাতে আয় কমেছে ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এছাড়া ভূ-সম্পত্তি খাতে অতিরিক্ত ৩ কোটি টাকা এবং অপটিক্যাল ফাইবার লিজ থেকে ১১ কোটি ৫২ লাখ টাকা বেশি আয় হয়েছে।

অন্যদিকে, পরিবহন ও বাণিজ্যিক খাতে—যার মধ্যে ভেন্ডিং লাইসেন্স ও বিবিধ আয় অন্তর্ভুক্ত—প্রায় ২৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা আয় কমেছে।

২০২৫–২৬ অর্থবছরে বেতন-ভাতা, পেনশন, রেলপথ এবং রোলিং স্টকের রক্ষণাবেক্ষণসহ বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট পরিচালন ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা। ফলে ব্যয় ও আয়ের অনুপাত (অপারেটিং রেশিও) দাঁড়িয়েছে ১.৯১, যা ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ছিল ২.০৯। অর্থাৎ, আগের বছরের তুলনায় আয়-ব্যয়ের ব্যবধান কমেছে।

রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা পেনশন ব্যয় পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় প্রকৃত আর্থিক চিত্র কিছুটা ভিন্নভাবে প্রতিফলিত হয়। পেনশন ব্যয় বাদ দিলে পরিচালন ব্যয় দাঁড়ায় ২ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা এবং অপারেটিং রেশিও নেমে আসে ১.৪৩-এ। অর্থাৎ, সে ক্ষেত্রে আয়ের তুলনায় ব্যয় মাত্র ৪৩ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত গণপরিবহন সংস্থা হওয়ায় জনস্বার্থে যাত্রীভাড়া দীর্ঘদিন ধরে রেয়াতি পর্যায়ে রাখা হয়েছে। ২০১৬ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত রেলের ভাড়া বাড়ানো হয়নি। অথচ এ সময়ে রক্ষণাবেক্ষণ সামগ্রী, আমদানিকৃত যন্ত্রাংশ, ডলারের বিনিময় হার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন এবং জ্বালানি তেলের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

রেলওয়ে সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় অন্যান্য গণপরিবহনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যৌক্তিকভাবে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হলে আয়-ব্যয়ের ব্যবধান আরও কমে আসবে। তাই বাংলাদেশ রেলওয়েকে শুধু লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে মূল্যায়ন করা বাস্তবসম্মত নয় বলে তারা মনে করেন।