ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬

কক্সবাজারে পাহাড়ধসে মৃত বেড়ে ৯

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬, ০১:১৯ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

প্রবল বর্ষণে কক্সবাজারে আবারও ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে পৃথক পাহাড় ধসে নারী-শিশুসহ আটজন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। একই রাতে কক্সবাজার শহরের ছাত্তারঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে আরও একজন স্থানীয় বাসিন্দার প্রাণহানি ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত চারজন।

সোমবার গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর রাত পর্যন্ত পৃথক সময়ে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। টানা বৃষ্টির কারণে নতুন করে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় পাহাড়ঘেঁষা জনপদ ও রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতে আতঙ্ক বিরাজ করছে। একই সঙ্গে ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল, সড়ক ও উপসড়ক প্লাবিত হয়েছে।

জানা গেছে, সোমবার গভীর রাতে প্রথম পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে উখিয়ার ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে। পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে একটি বসতঘরের ওপর পড়ে। দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানের পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মোহাম্মদ কামাল হোসাইন, তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম এবং চার বছরের ছেলে আনাসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় আরও দুজনকে।

এর কিছু সময় পর রাজাপালংয়ের কুতুপালং ৭ নম্বর শরণার্থী শিবিরে পাহাড়ি ঢলে চাপা পড়ে সাত বছর বয়সি একরামের মৃত্যু হয়।

রাত প্রায় ৩টার দিকে উখিয়ার বালুখালী ১১ নম্বর শরণার্থী শিবিরে আবারও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এতে নারী ও শিশুসহ আরও চারজন নিহত হন। আহত হন একজন।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয়, ক্যাম্প প্রশাসন এবং রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা রাতভর উদ্ধার অভিযান চালান। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করা হয়।

অন্যদিকে একই রাতে কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তারঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে একই পরিবারের তিনজন চাপা পড়েন। স্থানীয়দের সহায়তায় দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও গুরুতর আহত আলী আকবরকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পাহাড় ধসে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বহু বসতঘর ধসে গেছে। কাদামাটি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে অনেক আশ্রয়কেন্দ্র। নতুন করে ধসের আশঙ্কায় হাজারো পরিবার নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।

এদিকে, প্রবল বর্ষণে পর্যটন শহর কক্সবাজারসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়ক ও উপসড়কের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে যান চলাচল ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী অন্তত দুই দিন ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। এতে পাহাড় ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

প্রতি বর্ষা মৌসুমেই কক্সবাজারে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটলেও ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাস পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির এবং পাহাড়ঘেঁষা স্থানীয় বসতিগুলোতে ঝুঁকি বহাল থাকায় প্রতি বছরই প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।