ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

ব্যানার টানাতে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ২ সমর্থককে কুপিয়ে জখম

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৯, ২০২৬, ০১:৩২ এএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ফরিদপুরের মধুখালীতে নির্বাচনি ব্যানার টানানোর সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর দুই সমর্থককে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির প্রার্থীর সমর্থকের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত দুই জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মধুখালী উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের দোস্তরদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- ওই গ্রামের জাহিদ হাসানের ছেলে আবিদ হাসান রনি (২৫) ও আলিফ হাসান (২৩)।

তাদেরকে গুরতর আহত অবস্থায় রাত ৮ টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা ফরিদপুর-১ আসনের ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাসার খানের সমর্থক বলে জানা গেছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন- দুই ভাইয়ের বুক, পেট ও হাতে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত রয়েছে।

আহতদের বাবা জাহিদ হাসান অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাসারের নির্বাচন করতেছি। বিকেলে আমাদের গ্রামের ইটভাটার পাশে ফুটবলের ব্যানার টানাচ্ছিল আমার দুই ছেলেসহ আবুল বাসারের লোকজন। তখন বিএনপি প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের সমর্থক জিহাদ (৩৮) ব্যানার টানানোর জন্য নিষেধ করে।

তিনি আরও বলেন, এক পর্যায়ে ধারালো ছুরি দিয়ে আমার দুই ছেলেকে কুপিয়ে জখম করেছে। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এই জিহাদ স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি প্রার্থী মাসুদ খানের লোক, তার শেল্টারেই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আমার ছেলেদের যেভাবে যারা কুপিয়েছে তাদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাই।’

এদিকে মাসুদ খান বিএনপি প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক বলে নিশ্চিত করেন মধুখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম মানিক।

স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাসার খান বলেন, আমার দুই কর্মী ব্যানার টানাতে গিয়েছিল। তখন বিএনপি প্রার্থী খন্দকার নাসিরের লোকসহ আরও কয়েকজন গিয়ে বলে এই এলাকায় কেউ ব্যানার টানাতে পারবা না। এই খবর পেয়ে তারা একসাথে ব্যানার টানাচ্ছিল তখনই দৌড়ে গিয়ে তাদের কুপিয়ে চলে যায়। এতে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনাটি আমি ইউএনওকে অবগত করেছি।

বিএনপি প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আমার কোনো কর্মী হামলা করেনি, বিএনপির কর্মীরা সবাই ভোট চাইতেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী বাসার খানের দুইশ কোটি টাকার দেনা, তার কাছে অনেকে টাকা পায়।

পাওনাদাররা গিয়ে হামলা করতে পারে, বিএনপির লোক কেন হামলা করতে যাবে? আমাদের কোনো নেতাকর্মী হামলা করলে তাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেলেও আমার কোনো আপত্তিও নেই।

এ বিষয়ে মধুখালী থানার ওসি ফকির তাইজুর রহমান বলেন, ঘটনাটি মাত্রই জেনে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে হামলার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।