নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসকাণ্ডের প্রতিবাদে উত্তাল ভারতের ছাত্রসমাজ। দিল্লির যন্তর মন্তরের আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন। ছাত্রদের প্রতিবাদের তীব্রতার মধ্যেই বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বার্তা দিতে হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে।
প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর নতুন আইন প্রণয়নের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এদিকে ২৬ দিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার অনশন ভেঙেছেন পরিবেশ আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তবে আন্দোলনের উত্তাপ এখনো কমেনি।
আজ শুক্রবার কলকাতাতেও দেখা গেছে ছাত্র আন্দোলনের উত্তাপ। ভারতের ছাত্র ফেডারেশন (এসএফআই) ও বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলোর ডাকে শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিলে অংশ নেন বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী। তাদের সঙ্গে যোগ দেন অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের সদস্যরাও।
শুক্রবার দুপুর ৩টা ১০ মিনিটে শিয়ালদহ থেকে মিছিল শুরু হয়। হাতে পতাকা, প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন নিয়ে কলকাতার বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও তরুণ-তরুণীরা এতে অংশ নেন।
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি, অবিলম্বে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। এই দাবিতে শুক্রবার রাতে ‘জাগো’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ছাত্র সংগঠনগুলো।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শুধু নিট নয়, একের পর এক সর্বভারতীয় পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটছে। এর প্রতিবাদে রাস্তায় নামা আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, ডোরিনা ক্রসিং এলাকায় আন্দোলনকারীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। পরে পাল্টা বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে জুতো ও বোতল ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। এ সময় ‘চোর চোর’ স্লোগানও দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিং এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) মোতায়েন করা হয়েছে।
সূত্র : এই সময়

