ঢাকা শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫

বাংলা বললেই বাংলাদেশি, কীসের ভিত্তিতে পুশইন?

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৫, ১০:৪৪ এএম
আদালত ভবন। ছবি- সংগৃহীত

বাংলা ভাষা বললেই কি কাউকে বিদেশি বলে ধরে নেওয়া যায়? এই প্রশ্ন ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সারা দেশে। পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার অন্তঃসত্ত্বা মহিলা সোনালি বিবি ও তার পরিবারকে বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করার ঘটনায় কড়া প্রশ্ন তুলল দেশের শীর্ষ আদালত।

সোনালির পরিবারের অভিযোগ, গত ১৮ জুন দিল্লির রোহিনী জেলার কেএন কাটজু থানার পুলিশ তাদের বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করে এবং বিএসএফের হাতে তুলে দেয়। পরে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। ঠিক কোন সীমান্ত দিয়ে পাঠানো হয়েছে, তা জানানো হয়নি।

এই ঘটনার বিরুদ্ধে ‘পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদ’ নামক সংগঠন সুপ্রিম কোর্টে হেবিয়াস কর্পাস মামলা দায়ের করে। শুক্রবার বিচারপতি সূর্য কান্ত, জয়মাল্য বাগচি এবং বিপুল এম পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি ওঠে।

সোনালির পক্ষের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ আদালতে দাবি করেন, শুধুমাত্র বাংলা ভাষা বলার জন্য সোনালি ও তার পরিবারকে ‘বিদেশি’ বলে ধরে নেওয়া হয়েছে এবং বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এর জবাবে কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, ভুক্তভোগীরা নিজেরা আদালতে না এসে একটি সংগঠনের মাধ্যমে মামলা করেছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এর পেছনে রাজ্য সরকারের হাত থাকতে পারে। তিনি আরও বলেন, এটি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়।

তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ‘জাতীয় নিরাপত্তা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ভাষা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য- পশ্চিমবঙ্গ ও পাঞ্জাবের মতো সীমান্ত রাজ্যগুলিতে তা বহু যুগ ধরেই একে অপরের সঙ্গে মিশে আছে। তাই শুধু ভাষার ভিত্তিতে কাউকে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না।’

শীর্ষ আদালত কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছে, ‘কাউকে বিদেশি বলে ঘোষণা করে দেশছাড়া করার ক্ষেত্রে কী কী নিয়ম অনুসরণ করা হয়- তার বিস্তারিত এসওপি (Standard Operating Procedure) সাত দিনের মধ্যে হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে।’