ভোরের আলো ফুটতেই ছোট্ট একটি বাক্স, কিছু প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আর একটি পুরোনো ছাতা নিয়ে কাজে বসেন মিলন রবি দাস। কারো ছেঁড়া জুতা সেলাই, কারো স্যান্ডেলের তলা লাগানো, এই সামান্য আয়ই তার পরিবারের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন।
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার ব্যস্ত সড়কের পাশে কিংবা বাজারের কোনো কোণে বসে প্রতিদিন মানুষের জুতা মেরামতের কাজ করেন মিলন। সমাজের নিত্যপ্রয়োজনীয় একটি পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও নিজের জীবনে নিত্যসঙ্গী অভাব আর সংগ্রাম। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তার সংসার চলছে সীমাহীন কষ্টের মধ্য দিয়ে।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিশ্রম করেও প্রতিদিন সমান আয় হয় না। কোনো দিন কাজের চাপ থাকে, আবার কোনো দিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয় ক্রেতার অপেক্ষায়। তারপরও পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর আশায় প্রতিদিন নতুন উদ্যমে কাজে বসেন তিনি।
মিলন রবি দাস বলেন, ‘মানুষের ছেঁড়া জুতা ঠিক করে দিই, কিন্তু নিজের জীবনের সমস্যাগুলো ঠিক করতে পারি না। তবু কাজ করে যেতে হয়, এটাই আমাদের বেঁচে থাকার পথ।’
মুচি পেশার সঙ্গে জড়িত অন্যদের ভাষ্য, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির পাশাপাশি আধুনিক ও তুলনামূলক কম মেরামতযোগ্য জুতার ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো কাজ পাওয়া যায় না। তবু বাপ-দাদার পেশা এবং জীবিকার তাগিদে তারা এই কাজ আঁকড়ে ধরে আছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সমাজে অনেক সময় অবহেলিত হলেও মুচিরা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ সেবা দিয়ে আসছেন। তাদের জীবনমান উন্নয়ন, পেশাগত স্বীকৃতি এবং আর্থিক সহায়তার বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সন্দিপ বিশ^াস বলেন, ‘মুচিসহ ক্ষুদ্র পেশার সঙ্গে জড়িত মানুষদের কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরশীলতা তৈরিতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও ঋণ সহায়তার সুযোগ রয়েছে। আগ্রহীরা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নিজেদের পেশাকে আরও আধুনিক ও লাভজনকভাবে পরিচালনা করতে পারেন। পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতেও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে সহায়তা দেওয়া হয়।’
জুতার সেলাই করতে করতে জীবনের ভাঙাগড়া সামলে নেওয়া মিলন রবি দাসের মতো মানুষের গল্প মূলত নীরব সংগ্রামের গল্প। সমাজের প্রয়োজন মিটিয়েও যারা নিজেদের প্রয়োজনের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করে যাচ্ছেন, তাদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন