নেপালের রাজনীতিতে নতুন এক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। সাবেক সংগীতশিল্পী ও কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র বালেন্দ্র শাহ, যিনি বালেন নামে পরিচিত, দেশটির সাধারণ নির্বাচনে ভোট গণনায় বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। এই ধারা বজায় থাকলে তিনি নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনায় রয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের পর এখনো ভোট গণনা চলছে। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, বালেন শাহর দল ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি’ ১৬৫টি সরাসরি নির্বাচিত আসনের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা নেপালি কংগ্রেস অনেকটাই পিছিয়ে এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল।
পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে নেপালে ভোট গণনা সাধারণত ধীরগতির হয়। দুর্গম অঞ্চল থেকে ব্যালট বাক্স সংগ্রহে অনেক সময় হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে হয়। ফলে চূড়ান্ত ফলাফল জানতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কর্মকর্তারা।
কে এই বালেন শাহ
৩৫ বছর বয়সি বালেন্দ্র শাহ পেশায় একজন অবকাঠামো প্রকৌশলী। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নেপালের সংগীত অঙ্গনে পরিচিত মুখ ছিলেন। সামাজিক বার্তাধর্মী গান এবং তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে তিনি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
তাঁর একটি জনপ্রিয় গান ‘বলিদান’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এই গানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের মাধ্যমে তিনি তরুণদের কাছে প্রতিবাদী কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
২০২২ সালে তিনি কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হয়ে প্রথমবারের মতো সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। মেয়র হিসেবে নগর ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য সমস্যা এবং অবকাঠামো //////////////উন্নয়নে কিছু উদ্যোগ নিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন।
তরুণদের আন্দোলন ও জনপ্রিয়তা
গত বছর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া বিক্ষোভ নেপালের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের সূচনা করে। সেই আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে অন্তত ৭৭ জন নিহত হন এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলিকে পদত্যাগ করতে হয়।
এই আন্দোলনের সময় বালেন শাহ প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানান। এতে তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পায়। এবারের নির্বাচনে প্রথমবার ভোট দেওয়া প্রায় আট লাখ তরুণ ভোটারকে ঘিরেই মূল প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।
পুরোনো বনাম নতুনের লড়াই
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন নেপালের রাজনীতিতে পুরোনো ও নতুন নেতৃত্বের লড়াইকে সামনে এনেছে। গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে দেশটির রাজনীতিতে কয়েকটি পুরোনো দলই প্রাধান্য ধরে রেখেছে।
কিন্তু নতুন প্রজন্মের ভোটাররা পরিবর্তনের দাবি তুলছে। সেই পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবেই অনেকে বালেন শাহকে দেখছেন।
যদি তিনি শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হন, তবে তা নেপালের রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হবে। কয়েক দশকের পুরোনো নেতৃত্বের বাইরে গিয়ে তরুণ প্রজন্মের হাতে দেশের নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন