গাজায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পরও ফিলিস্তিনি শিশুদের প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত আট মাসেরও বেশি সময়ে প্রতিদিন গড়ে একজন করে শিশু নিহত হয়েছে। এ সময় অন্তত ২৬৫ শিশু প্রাণ হারিয়েছে এবং চার শতাধিক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। সংস্থাটির মুখপাত্র বলেন, যে সময়টি নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য নির্ধারিত ছিল, সেই সময়েও শিশুরা হামলার শিকার হচ্ছে। বাড়ি, আশ্রয়শিবির, বিদ্যালয় ও খেলার স্থানÍকোথাও তারা নিরাপদ নয়। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় অল্পবয়সী শিশু ও কিশোরদের গুলিবিদ্ধ হয়ে বা বিমান হামলায় নিহত হওয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, শুধু প্রাণহানিই নয়, আহত শিশুদের অনেকেই স্থায়ী শারীরিক অক্ষমতার ঝুঁকিতে রয়েছে।
প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকটের কারণে অনেকের অবস্থার আরও অবনতি হচ্ছে। গাজার হাসপাতালগুলো দীর্ঘদিনের অবরোধ ও সংঘাতের কারণে জ্বালানি, চিকিৎসাকর্মী এবং সরঞ্জামের তীব্র সংকটে ভুগছে। শিশুদের মানসিক অবস্থার বিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ভয়, অনিশ্চয়তা এবং সহিংসতার মধ্যে বেড়ে ওঠা একটি পুরো প্রজন্ম দীর্ঘমেয়াদি মানসিক আঘাতের মুখে পড়ছে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ আহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং মানবিক সহায়তা অবাধে পৌঁছাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন