ঢাকা মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬

৬ শিশুর মৃত্যু

আদ্-দ্বীনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আজ ছাড় দেবে না সরকার : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ৯, ২০২৬, ০৫:১৪ এএম

রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা আজ মঙ্গলবার চূড়ান্ত হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, জনস্বার্থে যেকোনো ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে সরকার বিন্দুমাত্র পিছপা হবে না।

গতকাল সোমবার সকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, তিন দিন টাইম দেওয়া হয়েছে। আমাদের কিছু ধারাবাহিক আইন মেনে কাজ করতে হবে, তারা সময় চেয়েছে। কোর্টও সময় দেয় অনেক সময়, না? কাজেই আমরা সময়টা না দিলে দে উইল গেট এ বেনিফিট ইন দা কোর্ট। আমরা দুই দিন সময় দিয়েছি। আমরা আমাদের আইনজীবীদের সঙ্গে আলাপ করে অত্যন্ত সুস্থিরভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধান করব। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

মন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ অনুদান দিলেই পার পাওয়া যাবে না। জনগণের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট সবকিছু দেখভাল করাই সরকারের কাজ। এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে শোকজের জবাব দিতে আরও দুদিন সময় দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কোরবানির ঈদের আগের দিন বুধবার ভোরের দিকে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ‘পোস্ট অপারেটিভ’ ওয়ার্ডে থাকা ছয় শিশুর সবাই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং একে একে তাদের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় দেশব্যাপী ‘গভীর উদ্বেগ, শোক ও ক্ষোভের’ সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় গঠিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি; দীর্ঘক্ষণ এসি বন্ধ থাকা এবং বিকল্প কোনো ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা না থাকা; বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াই শিশুগুলোর মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ।

সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, ভিকটিমদের পরিবারবর্গ, চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফদের বক্তব্য পর্যালোচনা এবং পারিপাশির্^ক অবস্থা বিবেচনায় তদন্ত কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে গত ২৭ মে ভোর ৫টা হতে সকাল ৯টার মধ্যে ছয়জন নবজাতকের আকস্মিক মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় উক্ত সময়ে দায়িত্বরত চিকিৎসক না থাকা, নার্স/স্টাফ এবং সর্বোপরি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের অবহেলাজনিত বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

৪ জুন ওই প্রতিবেদন প্রকাশের দিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয় তারা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আইন দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন। আর সেই সিদ্ধান্ত রোববারই জানানো হবে।

এদিকে প্রতিবেদন প্রকাশের দিনই আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে কারণ দর্শাও নোটিশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তিন দিনের মধ্যে তা জানাতে বলা হয় নোটিশে। কিন্তু নোটিশের জবাব দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে ৪৮ ঘণ্টা সময় চায় আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সে অনুযায়ী মঙ্গলবারের মধ্যে তাদের নোটিশের জবাব দেওয়ার কথা।

এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির রোববার সাংবাদিকদের জানান, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রত্যেক পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যৌথ আলোচনায় এই ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রত্যেক পরিবারকে ইতোমধ্যে ১০ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ক্ষতিপূরণ ও হাসপাতালের আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, এ ঘটনায় সরকার আইনজীবী নিয়োগ করে সঠিকভাবে প্রতিবেদন এবং সিদ্ধান্তের বিষয়ে সুপারিশ করবে।