ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

পিরোজপুরে সালিশি বৈঠক শেষে সংঘর্ষ, আহত ৪

পিরোজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ৪, ২০২৬, ০৯:০২ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

পিরোজপুর সদর উপজেলার কলাখালী ইউনিয়নে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আয়োজিত একটি সালিশি বৈঠক শেষে ফেরার পথে প্রতিপক্ষের হামলায় চারজন আহত হয়েছেন। বুধবার বেলা ১২টায় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে বের হওয়ার পর দাউদপুর বাজারের তামিম শিকদারের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মতিয়ার রহমান হাওলাদার ও কেরামত আলী শিকদার পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধ নিয়ে একাধিকবার সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি।

বুধবার (৩ জুন) বেলা ১২টায় কলাখালী ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান হেদায়েতুল ইসলাম মিস্টারের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ ইউনিয়ন পরিষদ ত্যাগ করলে দাউদপুর বাজার এলাকায় পৌঁছে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় মতিয়ার রহমান হাওলাদার পক্ষের মোহাম্মদ আল আমিন হাওলাদার গুরুতর আহত হন। এছাড়া শহিদুল ইসলামসহ আরও তিনজন আহত হন।

আহত আল আমিন হাওলাদারের ভাই রানেল হাওলাদার অভিযোগ করেন, বৈঠক শেষে তার বাবা, দুই ভাই আল আমিন হাওলাদার ও রাসেল হাওলাদার এবং চাচা শহিদ হাওলাদার ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বের হওয়ার পর আগে থেকে ওত পেতে থাকা প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় আল আমিন হাওলাদারের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। আহতদের পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে আল আমিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় পাঠানো হয়। এছাড়া রাসেল হাওলাদারের মাথায় আটটি সেলাই দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কেরামত আলী শিকদার বলেন, কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে প্রতিপক্ষ নিজেরাই নিজেদের ওপর হামলা চালিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।

কলাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেদায়েতুল ইসলাম মিস্টার বলেন, বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে বৈঠকটি আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু বৈঠক শেষে এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।