ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

আদালত থেকে পালিয়েও রক্ষা হয়নি, ২৪ ঘণ্টায় আটক

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬, ১০:২০ এএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

গাজীপুর মহানগর আদালত পুলিশের হেফাজত থেকে কৌশলে পালিয়ে যাওয়া ৩২টি মামলার আসামি মো. সম্রাট মণ্ডলকে (২৮) পালানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ময়মনসিংহ থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। আদালতের গারদখানার রিসিভ ডেস্ক থেকে তার পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, ঘটনার পরপরই শুরু হওয়া ছায়া তদন্তের ভিত্তিতে যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

র‌্যাব জানায়, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে ময়মনসিংহ জেলার কোতোয়ালি থানার কাশর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সম্রাট মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে অংশ নেয় র‌্যাব-১-এর স্পেশালাইজড কোম্পানি (সিপিএসসি), গাজীপুর এবং র‌্যাব-১৪-এর সিপিএসসি, ময়মনসিংহের যৌথ দল। র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার তথ্য, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

র‌্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২০ জুলাই) দুপুর ১টা ৫৬ মিনিটের দিকে গাজীপুর মহানগর (জিএমপি) আদালত পুলিশের নিয়ন্ত্রণাধীন গারদখানার রিসিভ ডেস্কে অন্য আসামিদের সঙ্গে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন সম্রাট মণ্ডল। এ সময় তিনি কৌশলে হাতকড়া থেকে হাত বের করে দৌড়ে পালিয়ে যান। ঘটনাটি মুহূর্তেই আদালত প্রাঙ্গণে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। পরে এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া সম্রাট মণ্ডল জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার তাকতাপাড়া গ্রামের দুলাল মণ্ডলের ছেলে। বর্তমানে তিনি গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার কলমেশ্বর এলাকায় বসবাস করতেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ৩২টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এ ঘটনায় আদালত পুলিশের উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) মঞ্জরুল ইসলাম বাদী হয়ে গাজীপুর সদর থানায় দণ্ডবিধির ২২৪ ধারায় একটি মামলা করেন।

র‌্যাব জানায়, সম্রাটকে গ্রেপ্তারের মাত্র এক দিন আগেই, গত ১৯ জুলাই রাত ৯টার দিকে জিএমপি সদর থানার অনুরোধে গাছা থানার খুনিয়া মধ্যপাড়া এলাকার চৌধুরী মার্কেটের একটি আটতলা ভবনের ভাড়া বাসায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে সম্রাট মণ্ডলসহ তার তিন সহযোগী—আলামিন ইসলাম (৩৮), শহীদুল ওরফে মনসুর (৪০) এবং আমিন মিয়াকে (২৮) গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১। পরে তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়। আদালতে হাজির করার পরদিনই সম্রাট পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যান।

র‌্যাব-১ এর কোম্পানির কোম্পানি কমান্ডার ক্যাপ্টেন ইফতেখার আহমেদ বলেন, আদালত প্রাঙ্গণ থেকে আসামি পালানোর ঘটনাকে র‌্যাব অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। ঘটনার পরপরই আমাদের আভিযানিক দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার তথ্য, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে পলাতক আসামির অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। এরপর র‌্যাব-১ ও র‌্যাব-১৪-এর যৌথ অভিযানে পালানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। কোনো অপরাধী আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না।

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া সম্রাট মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গাজীপুর সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।