ঢাকা মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬

জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পুশইন ঠেকাতে ভারতকে ১২-১৩টি চিঠি দিয়েছে সরকার

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ৯, ২০২৬, ০৫:১৯ এএম

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, ভারতের পুশইনের চেষ্টা বিজিবি শক্তভাবে প্রতিহত করছে। পাশাপাশি পুশইন বন্ধে ভারত সরকারকে ১২ থেকে ১৩টি চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। গতকাল সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।

শামা ওবায়েদ বলেন, অবৈধ যারা আছে তাদের ফেরত দেওয়ার একটা প্রক্রিয়া আছে। সেটা মেনেই ভারতকে কাজ করতে হবে। পুশইন দুদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে প্রভাব ফেলবে বলেও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) শিশু, নারীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে ঠেলে পাঠানো ঠেকাতে সম্প্রতি বাংলাদেশের ২৬ জেলার সীমান্তে বিপুল সংখ্যক বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা তারা সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন। সীমান্তের বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় লোকজনও তাদের সহযোগিতা করছেন।

ভারত থেকে যেভাবে লোকজনকে ঠেলে পাঠানো হচ্ছে তা ‘একেবারে গ্রহণযোগ্য নয়’ মন্তব্য করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, অবৈধ কেউ থেকে থাকলে তাদের ফেরাতে ‘কূটনৈতিক প্রক্রিয়া’ মানা উচিত দুদেশেরই। আমরা আশা করব যেÑ ভারত সরকার, এটা তারা সিরিয়াসলি নেবে এবং যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যথাযথ মেকানিজম এবং ডিপ্লোম্যাসির মাধ্যমে আমাদের এই কাজটি তারা সমাধান করবে।’

অবৈধ হয়ে পড়া বা কারাবন্দিদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে কূটনৈতিক চ্যানেল মানার আহ্বান জানান। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়নের স্বার্থেই তা মানা উচিত মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনোভাবেই এই পুশইনের মাধ্যমে যদি তারা করে, তা হলে অবশ্যই সেটা আমাদের জন্য ভালো হবে না। এবং সেটা আমাদের ভারত এবং বাংলাদেশ সম্পর্ক, যেটা আমরা বলি যেÑ নতুন উচ্চতায় ওঠার চেষ্টা হচ্ছে এবং তারাও একটা প্যারাডাইম শিফটের কথা বলেন; সে প্যারাডাইম শিফটটা যদি হতে হয়, তা হলে এই কাজগুলা যেই ডিপ্লোম্যাসি আছে, যে বিদ্যমান প্রক্রিয়া আছে, সে প্রক্রিয়াটাই আমাদের দুই দেশে অবলম্বন করা উচিত।

পুশইন নিয়ে কয়েদিন ধরেই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে অনেককে ফেরত নিয়েছে বিএসএফ। এর মধ্যে শূন্যরেখায় আটকে থাকা লোকজন নিয়ে কিছু সময়ের জন্য মানবেতর পরিস্থিতিও সৃষ্টি হয়েছে।

ভারতের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা ১২ থেকে ১৩টা চিঠি দিয়েছি দিল্লিতে; ভারতকে চিঠি দেওয়া হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। এবং বিজিবি সজাগ আছে এবং কোনোভাবে এটা আমরা অ্যালাও করছি না।’

সম্প্রতি ভারতের চেন্নাই থেকে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ৩৪ জনকে ফিরিয়ে আনার উদাহরণ টেনে শামা ওবায়েদ বলেন, এ রকম বাংলাদেশে যদি ভারতীয় কোনো ইলিগ্যাল সিটিজেন থাকে বা ভারতে যদি বাংলাদেশের কোনো ইলিগ্যাল সিটিজেন থাকে, তাদের ফেরত আনার বা আমাদের ভারতীয়দের ফেরত দেওয়ার একটি মেকানিজম বিদ্যমান আছে।

সেই বিদ্যমান মেকানিজমটা, ডিপ্লোম্যাসিটা অবলম্বন করেই ভারতকে আমাদের সঙ্গে কাজ করতে হবে, কথা বলতে হবে। বাংলাদেশও সেটা করবে। এখন পর্যন্ত ভারত সরকারকে দেওয়া ১২-১৩টি চিঠির কোনোটিরই উত্তর না আসার কথাও বলেছেন শামা ওবায়েদ।