ঢাকা মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬

বকেয়া বেতনের দাবি

নাসা গ্রুপের শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ৯, ২০২৬, ০৫:২০ এএম

বকেয়া বেতনের দাবিতে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত মহাখালী-তেজগাঁও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন নাসা গ্রুপের তিনটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। গতকাল সোমবার বিকেলে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা রাজপথে অবস্থান নিলে  সড়কে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দ্রুতই আশপাশের অন্য সংযোগ সড়কগুলোতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এতে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকেরা হঠাৎ করে মহাখালী ও তেজগাঁও সংযোগকারী মূল সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকার ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ সড়কটি সচল করার লক্ষ্যে আন্দোলনরত শ্রমিকদের বুঝিয়ে রাজপথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ক্রমাগত চেষ্টা চালায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, নাসা গ্রুপের সংশ্লিষ্ট পোশাক কারখানাটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে এবং শ্রমিকরা এখনো তাদের এক মাসের বকেয়া বেতন পাননি। কারখানাটির বর্তমান সংকটের কথা উল্লেখ করে ওসি বলেন, ‘এই গ্রুপের মূল মালিকরা বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তাদের সম্পত্তি আদালতের নির্দেশে নানা মামলায় জব্দ করা হয়েছে। এখন মালিকপক্ষের কেউ এমন নেই যে, যাদের সঙ্গে আমরা কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব। আর বকেয়া বেতন পাওয়া শ্রমিকদেরও আমরা কী আশ্বাস দেব সেই বিষয়ে বুঝতে পারছি না। যেহেতু মালিকপক্ষের সঙ্গে আমরা কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে পারছি না।

পুলিশ প্রশাসন আরও স্পষ্ট করে জানায়, মালিকপক্ষের সুনির্দিষ্ট প্রতিনিধি না থাকায় এবং আইনি জটিলতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে শ্রমিকদের কোনো জোরালো আশ্বাস দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম এই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে প্রশাসন তাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালায়।

আবুবকর নামের এক যাত্রী রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, হঠাৎ সড়ক অবরোধের কারণে চরম বিপদে পড়েছি। আমার কাজ ছিল বনানী। এয়ারপোর্ট ঘুরে সেটি শেষ করলেও আবার যানজটে আটকে পড়েছি।

এদিকে বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভে নামা কারখানার শ্রমিকরা প্রায় পৌনে তিন ঘণ্টা পর মূল সড়ক ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে মগবাজার থেকে বিমানবন্দরের পথে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানান, তাদের অনুরোধে গতকাল সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে আন্দোলনরত শ্রমিকরা মূল রাস্তা ছেড়ে পাশের গুলশান লিংক রোডে সরে যান।