× UCB Sticker Card
রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

গোল প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২৬, ০২:৪৪ এএম

৮০ মিনিটের পর যারা ভাগ্য বদলায়

গোল প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২৬, ০২:৪৪ এএম

৮০ মিনিটের পর যারা ভাগ্য বদলায়

আধুনিক ফুটবল কৌশল রূপ নিয়েছে দাবার বোর্ডের মতো এক সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক ও শারীরিক যুদ্ধে। ফিফা কর্তৃক ম্যাচ প্রতি স্থায়ীভাবে ৫ জন খেলোয়াড় পরিবর্তনের নিয়ম প্রবর্তন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় কৌশলগত বিপ্লব। বিশেষ করে ম্যাচের ৮০ মিনিটের পর যখন প্রারম্ভিক একাদশের খেলোয়াড়দের ফুসফুসের দম ফুরিয়ে আসে, পেশিগুলো ক্লান্তিতে আড়ষ্ট হয়ে পড়ে, ঠিক তখনই ডাগআউট থেকে তাজা রক্তের মতো মাঠে নামছেন কোচেদের বিশেষ ঘাতকেরা। প্রতিপক্ষের ক্লান্ত ডিফেন্সের সামান্যতম পজিশনাল ভুল বা ধীরগতির সুযোগ নিয়ে এই লেট-সাবস্টিটিউটরা কীভাবে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিচ্ছেন, তা ২০২৬ সালের এই সুবিশাল বিশ্বমঞ্চে দলগুলোর অন্যতম প্রধান রণকৌশল।

৫ বদলির নিয়ম : অতীতে ৩ জন খেলোয়াড় পরিবর্তনের নিয়ম যখন ছিল, তখন কোচেদের অনেক হিসাব করে চাল চালতে হতো। কোনো ডিফেন্ডার ইনজুরিতে পড়লে বা লাল কার্ড দেখলে কৌশলগত পরিবর্তনের সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যেত। কিন্তু ৫ জন বদলির নিয়ম কোচেদের ডাগআউটে এনে দিয়েছে এক অবিশ্বাস্য ‘ট্যাকটিক্যাল নমনীয়তা’। এর ফলে কোনো কোচ এখন চাইলে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে মাঠের পুরো ক্যারেক্টার বা খেলার দর্শনই বদলে দিতে পারেন। খেলা যখন ৮০ মিনিটে গড়ায়, তখন সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারদের ল্যাকটিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যায়, যার ফলে তাদের রিঅ্যাকশন টাইম বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কয়েক মিলিসেকেন্ড কমে যায়। ঠিক এই মুহূর্তে হাই-স্পিড উইঙ্গার বা একজন ক্ষুরধার বক্স-শিকারীকে মাঠে নামানো কোচেদের ‘প্ল্যান বি’ বাস্তবায়নের মূল চাবিকাঠি। এই তাজা খেলোয়াড়েরা কাউন্টার-অ্যাটাক বা হাই-প্রেসিংয়ের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের ডিফেন্সকে তাসের ঘরের মতো ভেঙে দিতে পারেন।

বিশ্বকাপের সেরা ৫ সুপার সাব : ০২৬ সালের এই টুর্নামেন্টে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় নিজেদের প্রথাগত ‘সুপার সাব’ বা ম্যাচের ভাগ্যবদলকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। নিচে এমন ৫ জন ফুটবলারের রণকৌশলগত বিশ্লেষণ দেওয়া হলো-

হুলিয়ান আলভারেজ (আর্জেন্টিনা) : লাউতারো মার্টিনেস যদি শুরু থেকে খেলেন, তবে ৮০ মিনিটের পর আলভারেজের মাঠে প্রবেশ প্রতিপক্ষের ডিফেন্সের জন্য এক দুঃস্বপ্ন। তার অক্লান্ত দৌড়ানোর ক্ষমতা এবং প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের বল বিল্ড-আপে বাধা দেওয়ার কৌশল আর্জেন্টিনাকে শেষ মুহূর্তে হাই-প্রেস করতে সাহায্য করে।

ওলি ওয়াটকিন্স (ইংল্যান্ড) : হ্যারি কেইনের ধীরস্থির পজিশনাল প্লে-র পর ৮০ মিনিটের পর ওয়াটকিন্সের মাঠে আসা মানেই ম্যাচের টেম্পো একলাফে বেড়ে যাওয়া। ক্লান্ত ডিফেন্ডারদের পেছনে তার নিখুঁত টাইমিংয়ের রান ইংল্যান্ডকে ইনজুরি টাইমে অনেক গুরুত্বপূর্ণ গোল এনে দিচ্ছে।

রদ্রিগো (ব্রাজিল) : ব্রাজিলের আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস বা রাফিনহার ক্লান্তির সুযোগ নিয়ে রদ্রিগোর লেট এন্ট্রি সেলেসাওদের উইংয়ের ধার সচল রাখে। রদ্রিগো কেবল উইংয়ে আটকে থাকেন না, বরং ভেতরের চ্যানেলে ঢুকে প্লে-মেকারের ভূমিকাও নিতে পারেন।

মেমফিস ডিপাই (নেদারল্যান্ডস) : ডাচ কোচের ‘প্ল্যান বি’-র অন্যতম বড় বাজি ডিপাই। ম্যাচের শেষ দিকে যখন প্রতিপক্ষ বক্সের সামনে ফাউল করতে বাধ্য হয়, তখন ডিপাইয়ের ফ্রি-কিক এবং সেট-পিস নেওয়ার দক্ষতা ডাচদের অচলাবস্থা ভাঙার প্রধান হাতিয়ার।

জোয়াও ফেলিক্স (পর্তুগাল) : পর্তুগালের হয়ে শেষ ১০-১৫ মিনিটে ফেলিক্সের হাফ-স্পেসে বল রিসিভ করার ক্ষমতা দারুণ কার্যকর। যখন প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগ নিচে নেমে কমপ্যাক্ট হয়ে যায়, তখন ফেলিক্সের ওয়ান-টাচ পাসিং এবং বক্সে সূক্ষ্ম ফ্লিক স্পেস তৈরি করতে সাহায্য করে।

ফুটবলের নতুন ব্যাকরণ : এই ট্যাকটিক্যাল বিবর্তনের ফলে ফুটবলারদের মানসিকতাতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। অতীতে শুরুর একাদশে সুযোগ না পেলে খেলোয়াড়দের মধ্যে যে হতাশা দেখা যেত, আধুনিক স্পোর্টস সাইকোলজিস্টরা তা বদলে দিয়েছেন। খেলোয়াড়দের এখন বোঝানো হয়Ñ তুমি বেঞ্চে আছ মানে তুমি বাদ পড়েছ তা নয়, বরং তুমি হলে এই ম্যাচের ‘ফিনিশার’, যার ওপর শেষ ১০ মিনিটের তীব্র চাপ সামলানোর গুরুদায়িত্ব। ৯০ মিনিটের ফুটবলে প্রথম ৭০ মিনিট যদি হয় শারীরিক সক্ষমতা ও রণকৌশল ধরে রাখার পরীক্ষা, তবে শেষ ২০ মিনিট হলো সম্পূর্ণ স্নায়ু ও তাজা শক্তির সংঘাত। ৫ বদলির এই যুগে যে দলের ডাগআউটের গভীরতা যত বেশি এবং যাদের কোচেদের ‘প্ল্যান বি’ যত বেশি নিখুঁত, বিশ্বজয়ের ট্রফি শেষ পর্যন্ত তাদের দিকেই হেলে পড়ে। ৮০ মিনিটের পর ভাগ্য বদলানোর এই গল্পগুলোই প্রমাণ করে যে, আধুনিক ফুটবলে শেষ বাঁশি বাজার আগে কোনো পূর্বাভাসই চূড়ান্ত নয়।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!