ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই, ২০২৬

রোনালদো-মদ্রিচের শেষ লড়াই

মিনহাজুর রহমান নয়ন
প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬, ০৬:৩৮ এএম

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচই একটি নতুন গল্প লেখে। এখানে অতীতের সাফল্য কিংবা ব্যর্থতার কোনো মূল্য থাকে না; ৯০ মিনিটের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করে ভবিষ্যৎ। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি লড়াইও ঠিক তেমনই এক নাটকীয় অধ্যায়ের অপেক্ষায়।

এই ম্যাচকে ঘিরে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নিঃসন্দেহে দুই কিংবদন্তিÑ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লুকা মদ্রিচ। ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের অসংখ্য মহারণে একে অপরের বিপক্ষে খেলেছেন তারা। এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে হয়তো শেষবারের মতো মুখোমুখি হচ্ছেন দুই মহাতারকা। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এটি শুধু একটি নকআউট ম্যাচ নয়, বরং একটি প্রজন্মের বিদায়ের প্রতীকও।

গ্রুপ পর্বে পর্তুগাল ছিল অপরাজিত। তিন ম্যাচে এক জয় ও দুই ড্রয়ে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে ‘কে’ গ্রুপের রানার্সআপ হয় তারা। বল দখলে আধিপত্য থাকলেও আক্রমণে ধারাবাহিকতা ছিল না। বেশ কয়েকটি ম্যাচে সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পেতে কষ্ট হয়েছে।

ক্রোয়েশিয়ার শুরুটা ছিল উল্টো। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হার দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করলেও পরের দুই ম্যাচে ঘানা ও পানামাকে হারিয়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে। ছয় পয়েন্ট নিয়ে নকআউটে ওঠা দলটি দেখিয়েছে, বড় টুর্নামেন্টে তারা কখনো সহজে হার মানে না।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালে। সেই আসরে তিনি প্রথমবার নকআউট খেলেন এবং পর্তুগালকে সেমিফাইনালে তুলতে ভূমিকা রাখেন। এরপর ২০১০, ২০১৮ ও ২০২২ সালে নকআউট পর্বে খেললেও গোলের হিসেবে তিনি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। ২০০৬ থেকে ২০২২ বিশ্বকাপ পর্যন্ত তিনি আটটি নকআউট ম্যাচে মাঠে নেমেছেন। এই দীর্ঘ সময়ে তার একটি গোলও নেই এবং কোনো অ্যাসিস্টও নেইÑ যা তার অসাধারণ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম আলোচিত পরিসংখ্যান। ফলে ২০২৬ সালের এই নকআউট ম্যাচ তার জন্য শুধুই শেষ ষোলোয় ওঠার লড়াই নয়, বরং বিশ্বকাপ নকআউটে নিজের উত্তরাধিকারকে আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ। বিশ্বকাপে তিনি ইতোমধ্যেই টানা ছয়টি আসরে খেলা এবং ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করা প্রথম ফুটবলার হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন।

একসময় স্পেনের ক্লাব ফুটবলে একই জার্সিতে খেলেছেন রোনালদো ও মদ্রিচ। তাদের বোঝাপড়া রিয়াল মাদ্রিদকে একাধিক চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা এনে দিয়েছিল। কিন্তু জাতীয় দলের জার্সিতে তারা এখন দুই ভিন্ন স্বপ্নের প্রতিনিধিত্ব করছেন। রোনালদো চাইবেন গোল করে পর্তুগালকে এগিয়ে নিতে, আর মদ্রিচ চাইবেন নিজের পাসিং ও নেতৃত্বে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে। এই দুই কিংবদন্তির দ্বৈরথই ম্যাচটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বৈরথ হবে ব্রুনো ফার্নান্দেজ বনাম লুকা মদ্রিচ। একজন আক্রমণ তৈরি করবেন, অন্যজন মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করবেন। রাফায়েল লেয়াওয়ের গতির বিপরীতে থাকবেন যশকো গভার্দিওল। অন্যদিকে কর্নার ও ফ্রি-কিকের সময় রোনালদোকে সামলাতে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণকে থাকতে হবে অতিরিক্ত সতর্ক। ম্যাচের শুরু থেকেই পর্তুগাল বলের দখল নিয়ে খেলতে চাইবে। কিন্তু সময় যত গড়াবে, ক্রোয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা এবং ধৈর্য ম্যাচকে অতিরিক্ত সময় বা টাইব্রেকারের দিকেও নিয়ে যেতে পারে। পর্তুগালের আক্রমণ বনাম ক্রোয়েশিয়ার শৃঙ্খলিত রক্ষণ মিলিয়ে এই ম্যাচটি ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় লড়াই হওয়ার সব উপাদানই ধারণ করছে।