ঢাকা মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬

সংসদে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী

দেশে বছরে ৩৫ লাখ টন খাদ্য যায় ময়লার ঝুড়িতে

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ৯, ২০২৬, ০৫:৪৯ এএম

খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইউএনএপির ২০২৪ সালের ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স প্রতিবেদনে দেশে প্রতি বছর প্রায় ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয়ের তথ্য সামগ্রিক সংখ্যা।

গতকাল সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান খাদ্য প্রতিমন্ত্রী। গতকাল বিকেল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।

কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম লিখিত প্রশ্নে জানতে চান জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইউএনএপির ২০২৪ সালের ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্সের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বাংলাদেশে প্রতি বছর যে পরিমাণ খাদ্য উৎপাদন হয় তার একটি বড় অংশই চলে যায় ময়লার ঝুঁঁড়িতে, যা প্রায় ৩৫ লাখ টন। দেশে খাদ্যের অপচয় রোধকল্পে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে আপনার মন্ত্রণালয় কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে?

লিখিত জবাবে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইউএনএপির ২০২৪ সালের ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স প্রতিবেদনে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয়ের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে, তবে প্রতিবেদনে যে সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে তা সামগ্রিক সংখ্যা। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে তা খাদ্য গুদাম ও সাইলোতে সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে। সরকারের বিভিন্ন খাতে খাদ্য গুদাম ও সাইলো থেকে খাদ্যশস্য বিতরণ হয়ে থাকে। ওই ব্যবস্থাপনায় কিছু খাদ্যশস্য নষ্ট হয়। তবে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগ যেমন- নতুন আধুনিক সাইলো ও খাদ্য গুদাম নির্মাণ, সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ, পরিবহন সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সচেতনতা বৃদ্ধিসহ অন্যান্য প্রচেষ্টার মাধ্যমে খাদ্যশস্যের অপচয় পর্যায়ক্রমে কমানো হচ্ছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে খাদ্যশস্য ঘটাতি ১৮৮৮৭ দশমিক ৩৪৭ টন

মো. আব্দুল বারী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে খাদ্যশস্যের মোট ঘাটতি বা অপচয়ের পরিমাণ ছিল ১৮৮৮৭ দশমিক ৩৪৭ টন; যা শতকরা হিসাবে শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ। অন্যদিকে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের মোট ঘাটতি বা অপচয়ের পরিমাণ ২১৩২৯ দশমিক ৮৮ টন; যা শতকরা হিসাবে শূন্য দশমিক ৩১৬ শতাংশ। উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ঘাটতি আগের অর্থবছর থেকে হ্রাস পেয়েছে।

তিনি আরও জানান, খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশে খাদ্যের অপচয় রোধে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।