বরিশাল মেট্রোপলিটনের আওতাধীন এলাকাসমূহের অপরাধমূলক কর্মকা- রুখতে মাঠ পুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনার আলোকে শিগগির অপরাধ দমনে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামতে যাচ্ছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। বিশেষ করে চার থানা কোতোয়ালি, কাউনিয়া, বিমানবন্দর ও বন্দর এলাকার মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া, অনলাইন জুয়া, অসামাজিক কার্যকলাপ, চাঁদাবাজি, চুরি, ছিনতাই রোধসহ অপরাধীদের লাগাম টেনে ধরতে চাইছেন স্থানীয় পুলিশের শীর্ষমহল। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আশিক সাঈদ গত রোববার পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠককালে এমন নির্দেশনা দেন বলে জানা গেছে।
বিএমপি সূত্র জানায়, ডিআইজি আশিক সাঈদ বিএমপি কমিশনার হিসেবে গত ৭ মে যোগদান করেন। পরে তিনি হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যান। সেখান থেকে ফিরে বরিশাল নগরীর সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গত ৭ জুন অধীনস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এই বৈঠকে শহরের অপরাধমূলক কর্মকা- রোধে মাঠ পুলিশকে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মো. আব্দুল হান্নান, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সুশান্ত সরকার, উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ ইমদাদ হুসাইন, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) পলাশ কান্তি নাথ প্রমুখ।
বৈঠকে অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রূপালী বাংলাদেশকে জানান, নতুন পুলিশ কমিশনার বেশ কয়েকটি বিষয়ে শক্ত পদক্ষেপ রাখতে বলেছেন। তার মধ্যে বেশিমাত্রায় গুরুত্ব পেয়েছেÑ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের কীভাবে দমন করা যায়। কমিশনার অপরাধ ও অপরাধীদের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স-নীতি অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে নাগরিক সমাজ। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাদক-সন্ত্রাসসহ অপরাধমূলক কর্মকা- রোধে পুলিশের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ^াস দেওয়া হলেও পদক্ষেপ লক্ষণীয় নয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অপরাধমূলক কর্মকা- আরও বৃদ্ধি পায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তায় শহরের অলিগলিতে মাদক ছড়িয়ে পড়ে। মাদক ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মারামারি ও খুনের ঘটনাও ঘটে।
সর্বশেষ গত ১৫ মে মাদকসংক্রান্ত বিরোধে জড়িয়ে নিহত হন কাউনিয়া থানাধীন পলাশপুর এলাকার জসিম সিকদার বাবু নামে ত্রিশোর্ধ্ব যুবক। গভীর রাতে বাসার অদূরে ১০-১৫ যুবক তাকে ধাওয়া করে এবং একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। আলোচিত এই হত্যাকা-ের মূল হোতা মধুসহ কয়েকজনকে পুলিশ স্বল্প সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। বর্তমানে তারা কারাগারে আছে।
মাঠ পুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়ে জানতে গতকাল সোমবার অপরাহ্ণে কমিশনার আশিক সাঈদকে ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার সরকারি নম্বরটি উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মো. আব্দুল হান্নান রিসিভ করেন। তিনি রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, মাঠ পুলিশকে রোববারের বৈঠকেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চারটি থানাÑ কোতোয়ালি, কাউনিয়া, বন্দর ও বিমানবন্দরের ওসিদের আওতাধীন এলাকাগুলোর অপরাধ দমনে কঠোর হওয়ার নির্দেশ রয়েছে।
তিনি আরও জানান, মাঠ পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান অবলম্বন করবে। চালানো হবে অভিযান। এ ধরনের অভিযান পরিচালনায় পুলিশের তরফ থেকে শহরবাসীর সহযোগিতাও কামনা করা হয়।

