পেটের অতিরিক্ত মেদকে অনেকেই শুধু সৌন্দর্যের সমস্যা বলে মনে করেন। আবার অনেকেই ভাবেন এর জন্য কাজে সমস্যা হয়। তবে চিকিৎসকদের মতে, এই অতিরিক্ত মেদ কেবল ওজনই বাড়ায় না, নীরবে ক্ষতি করতে পারে মস্তিষ্কেরও। নতুন গবেষণার তথ্য বলছে, পেটের গভীরে জমে থাকা ভিসেরাল ফ্যাট স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ও চিন্তাশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকি দীর্ঘমেয়াদে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
নিউরোলজিস্টরা জানান, শরীরের সব ধরনের চর্বি সমান ক্ষতিকর নয়। ত্বকের নিচে থাকা সাবকিউটেনিয়াস ফ্যাট তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ। তবে পেটের ভেতরে বিভিন্ন অঙ্গের চারপাশে জমে থাকা ভিসেরাল ফ্যাট স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর। তার মতে, যাদের ভিসেরাল ফ্যাট বেশি, তাদের মধ্যে দেখা দিতে পারেÑ স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি, মস্তিষ্কের আকার ছোট হয়ে যাওয়া, স্মৃতি নিয়ন্ত্রণকারী অংশ হিপোক্যাম্পাসের আকার কমে যাওয়া।
মেদ যেভাবে মস্তিষ্কের ক্ষতি করে : নিউরোলজিস্টরা জানান, ভিসেরাল ফ্যাট শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে। পাশাপাশি এটি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে অস্বাস্থ্যকর চর্বির মাত্রা বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র রক্তনালির ক্ষতি এবং হরমোনের ভারসাম্যে পরিবর্তন ঘটায়। এসব কারণ ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের কার্যকারিতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অতিরিক্ত ভিসেরাল ফ্যাট থাকলে তথ্য প্রক্রিয়াকরণের গতি কমে যায়, মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয় এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও দুর্বল হতে পারে। এসব পরিবর্তন অনেক সময় ডিমেনশিয়ার লক্ষণ প্রকাশের বহু বছর আগেই শুরু হয়।
ভিসেরাল ফ্যাট কমাবেন যেভাবে : বিশেষজ্ঞের মতে, বয়স বা জিনগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করা সম্ভব না হলেও জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন এনে ভিসেরাল ফ্যাট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এজন্য নিউরোলজিস্টদের পরামর্শ হলো নিয়মিত অ্যারোবিক ব্যায়াম করা। সপ্তাহে অন্তত দুই দিন শক্তি বাড়ানোর (স্ট্রেন্থ ট্রেনিং) ব্যায়াম করা। ভূমধ্যসাগরীয় (মেডিটেরেনিয়ান) ধাঁচের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা। পর্যাপ্ত প্রোটিন ও আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া। প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানো। স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা।
নিউরোলজিস্টরা বলেন, বাজারে প্রচলিত তথাকথিত ‘ফ্যাট বার্নিং’ সাপ্লিমেন্টের কার্যকারিতার পক্ষে শক্ত প্রমাণ নেই। তাই শুধু ওজন মাপার যন্ত্রের ওপর নির্ভর না করে কোমরের পরিধি এবং কোমরের মাপ ও উচ্চতার অনুপাত পর্যবেক্ষণ করা উচিত। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এই অনুপাত শূন্য দশমিক ৫-এর নিচে থাকাকে ভালো লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়। যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, প্রি-ডায়াবেটিস বা ফ্যাটি লিভারের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য ভিসেরাল ফ্যাট কমানো আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি শুধু হৃদযন্ত্র নয়, মস্তিষ্কও সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

