ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন সংস্থাটির ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম। গতকাল ডিএমপি মিডিয়ার উপপুলিশ কমিশনার এন এম নাসির উদ্দীন জানান, আগের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার অবসরে যাওয়ায় নতুন করে নজরুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে তার এই দায়িত্ব গ্রহণকে নিছক কোনো রুটিন প্রশাসনিক পদায়ন হিসেবে দেখা হচ্ছে না। রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ডিএমপির সংকট ব্যবস্থাপনায় তার সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানায়, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ডিএমপির অভ্যন্তরীণ কাঠামো যখন চরম অনিশ্চয়তা এবং মনস্তাত্ত্বিক সংকটে পড়ে, তখন ডিএমপির ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে নজরুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ও নেপথ্য সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন।
মেট্রোপলিটন এলাকার বিপর্যস্ত পুলিশিং ব্যবস্থাকে পুনর্গঠিত করে কার্যকর অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে তার এই কৌশলগত ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা। সে সময় তিনি কেবল রাজধানীর অপরাধ দমনেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। মহানগর পুলিশের সদস্যদের বিপর্যস্ত মনোবল পুনর্গঠন, ইউনিটগুলোর চেইন অব কমান্ড ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং ডিএমপির প্রতি নগরবাসীর আস্থা পুনরুদ্ধারের মতো জটিল ও সংবেদনশীল বিষয়েও তিনি কার্যকর নেতৃত্ব দেন।
দৃশ্যমান উপস্থিতির পাশাপাশি দূরদর্শী নীতিগত সিদ্ধান্ত, ডিএমপির বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবভিত্তিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তিনি ধাপে ধাপে ঢাকা মহানগর পুলিশের বিশৃঙ্খল কাঠামোকে পুনরায় সক্রিয় করে তোলেন। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক নগর পুলিশিং কেবল শক্তি প্রয়োগের বিষয় নয়; বরং এটি আস্থা, মানবিকতা এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্তের একটি সমন্বিত রূপ।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে ডিএমপিতে নজরুল ইসলামের নেতৃত্বের ধরনকে বিশেষজ্ঞরা ‘কৌশলগত স্থিতিশীলতা মডেল’ (স্ট্র্যাটেজিক স্ট্যাবিলাইজেশন মডেল) হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই মডেলের মাধ্যমে তিনি সংকটকালে মহানগর পুলিশের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য রক্ষা এবং নগরবাসীর আস্থা পুনরুদ্ধারÑ দুই ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ ঢাকা মহানগর পুলিশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
ভারপ্রাপ্ত কমিশনার হিসেবে তার এই নতুন দায়িত্ব গ্রহণকে ঘিরে ডিএমপির অভ্যন্তরীণবলয় ও প্রশাসনিক মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, তার দীর্ঘ পেশাদার অভিজ্ঞতা, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং বাস্তবধর্মী নেতৃত্ব ডিএমপিকে আগামী দিনে আরও আধুনিক, জবাবদিহিমূলক এবং নগরবাসীর আস্থার একটি শক্ত ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন