ঢাকা মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন

টিআইবির প্রতিবেদন পত্রিকার কাটিংনির্ভর তারা তদন্ত করে না

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ৯, ২০২৬, ০৫:৩১ এএম

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি-সংক্রান্ত প্রতিবেদনকে ‘পত্রিকার কাটিংনির্ভর’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, টিআইবি কোনো তদন্ত করে না; তাই প্রকৃত তথ্য জানতে পুলিশ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অপরাধ-পরিসংখ্যানের ওপর নির্ভর করা উচিত।

সম্প্রতি আলোচিত তিনটি মামলার তদন্তে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের পুরস্কার প্রদান উপলক্ষে রোববার সচিবালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সাংবাদিকরা জানতে চান, সরকারের ১০০ দিন পূর্তির পর পুলিশ জনগণের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে কি না এবং টিআইবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময়ে ৬ শতাধিক হত্যাকা- ঘটেছে; এই অবস্থায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে সন্তোষজনক মনে করেন কি না।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমার কাছে সেই রিপোর্টটা সামনে নাই। আমরা মাসভিত্তিক অপরাধের পরিসংখ্যান প্রস্তুত করি। ডাকাতি, খুন, হত্যা, ধর্ষণÑ এসব অপরাধ জাতীয়ভাবে প্রতি মাসে এবং বছরওয়ারী কতটা ঘটছে, তার হিসাব আমাদের কাছে থাকে। এরপর আগের বছরের একই সময়ের সঙ্গে তা তুলনা করি।

পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, জনগণই এ বিষয়ে চূড়ান্ত বিচার করবে। তিনি বলেন, ‘আমরা পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব বাহিনীতে রূপান্তর করতে পেরেছি বলে আমার মনে হয়। তাদের মানসিকভাবে উৎসাহিত করা দরকার, যাতে তারা জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী, আইন অনুযায়ী এবং আইনের শাসন বাস্তবায়নের জন্য কাজ করতে পারে।’

সরকারের নীতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা ‘রিওয়ার্ড অ্যান্ড পানিশমেন্ট’ (পুরস্কার ও শাস্তি) নীতিতে বিশ্বাস করি। ভালো কাজের জন্য স্বীকৃতি এবং মন্দ কাজের জন্য শাস্তি। শিষ্টের পালন ও দুষ্টের দমনÑ এটাই আমাদের নীতি। আমরা বাস্তবে সেটা ইনশাআল্লাহ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি, সামনের দিনে দেখা যাবে যে আমরা কতটুক সফল হয়েছি।’

টিআইবির মূল্যায়ন সরকার গ্রহণ করছে নাকি প্রত্যাখ্যান করছেÑ এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘টিআইবি তো সরকারি সংস্থা নয়। আপনারা পরিসংখ্যান নেবেন পুলিশ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। তারপর আপনারাই বিচার করবেন, জনগণ বিচার করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘টিআইবি রিপোর্ট করে পত্রিকার কাটিংয়ের ভিত্তিতে। টিআইবি কোনো তদন্ত করে না। প্রকৃত ঘটনা যাচাই করে তারপর কোনো স্টেটমেন্ট দেয় না।’

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের সামনে যেটা আছে, সেটা হলো পুলিশের অপরাধ চিত্র; সেটি আমরা জেলা পর্যায় থেকে নিয়মিত সংগ্রহ করি, সেটা আমাদের রুটিন ওয়ার্ক এবং সেটাই প্রকৃত তথ্য। তিনি বলেন, পত্রিকান্তরে অনেক খবর প্রকাশিত হয়, সেগুলো আমরা অবশ্যই নজরে আনি এবং খোঁজখবর নেই। প্রত্যেকটা ঘটনা যে সঠিক, সে রকম বলা যাবে না। তবে যেহেতু পত্রিকার লেখার স্বাধীনতা আছে, আমরা সেগুলো যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য পাঠাই।

তার কথায়, ‘আমি সমস্ত পত্রিকার কাটিংগুলো সকালে না দেখতে পারলেও দেখি; সারা দিনের মধ্যেই দেখি। দেখে আমি কনসার্নড ডিপার্টমেন্টের (দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগ) কাছে পাঠাই যে, এ বিষয়ে আপনারা এক্সামিন করে (খতিয়ে দেখে) আমাকে মতামত দেন, প্রকৃত ঘটনা কী। তো টিআইবির রিপোর্টটা তো শুধু পেপার কাটিংয়ের ওপরে হয়ে থাকে। তাই সে বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’