ঢাকা সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬

সংসদে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

চিকিৎসা ব্যয়ের ৮০ শতাংশ যায় রোগীদের পকেট থেকে

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২৬, ০৬:০০ এএম

বাংলাদেশে চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তিনি জানান, দেশে স্বাস্থ্যসেবায় মোট ব্যয়ের প্রায় ৮০ শতাংশই রোগীদের নিজেদের পকেট থেকে বহন করতে হয়, যা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এর বিপরীতে থাইল্যান্ডে এই হার মাত্র ১০ শতাংশ এবং মালদ্বীপে প্রায় ১৮ শতাংশ।

গতকাল রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। ডা. এম এ মুহিত বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে একটি প্রধান সমস্যা হলো চিকিৎসার ব্যয় লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পাওয়া। তবে তার চেয়েও ভয়ঙ্কর বিষয় হচ্ছে, এই ব্যয়ের সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৮০ শতাংশই রোগীকে নিজের পকেট থেকে টাকা দিয়ে মেটাতে হয়।

এবারের বাজেটে কোনো ধরনের অপরিকল্পিত হাসপাতাল বা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রাখা হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বাজেটের মূল লক্ষ্য হলো ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করা। সরকার এমন একটি সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে আর্থিক অবস্থান নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিক বিনামূল্যে ও সহজে চিকিৎসাসেবা পাবেন। মূলত একটি সহজপ্রাপ্য, সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতেই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

দেশের স্বাস্থ্য খাতের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে ডা. এম এ মুহিত বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটে থাকে। এসব রোগের মধ্যে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগ এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রধান। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একইসঙ্গে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, স্বাস্থ্যসেবা বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্বাস্থ্য খাতে ক্রয় প্রক্রিয়ায় আরও বেশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। তিনি আরও আশ্বস্ত করেন যে, সরকার এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলবে যেখানে শহর ও গ্রামের মানুষ একই মানের স্বাস্থ্যসেবা পাবে এবং এই ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হবে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা।

এবার স্বাস্থ্য খাতের বাজেট ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাজেট বৃদ্ধির ফলে সরকার এখন চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধেই বেশি গুরুত্ব দেবে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে খুব দ্রুত একটি কার্যকর রেফারেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে।