জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো শহিদ শেখ শাহরিয়ার বিন মতিনের স্মৃতি এখনো অমলিন। শোকের রেশ না কাটতেই ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে শহিদ শাহরিয়ারের বাবার বিরুদ্ধে উঠেছে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, একমাত্র ছেলের মৃত্যুর পর সরকার থেকে পাওয়া অনুদানের সোয়া ৫ লাখ টাকা দিয়ে স্বর্ণালংকার কিনে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এ ঘটনা বর্তমানে উপজেলাজুড়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় তুলেছে।
অভিযুক্ত বাবার নাম মোহাম্মদ আব্দুল মতিন (৫০)। তিনি ঈশ্বরগঞ্জের মাইজবাগ ইউনিয়নের কুমড়াশসন গ্রামের বাসিন্দা এবং ঢাকার মতিঝিল এলাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সেলস ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত।
শহিদ শাহরিয়ারের মা মমতাজ বেগম জানান, ২০০৪ সালে বিয়ের পর ২২ বছরের সংসারজীবনে তাদের কোল আলো করে এসেছিল এক ছেলে ও এক মেয়ে। শাহরিয়ার ১৮ জুলাই ঢাকার মিরপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে ২০ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন। মমতাজ বেগমের অভিযোগ, সন্তানের রক্ত শুকানোর আগেই তার স্বামী তাকে না জানিয়ে এবং কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই গত ২৯ মে দ্বিতীয় বিয়ে করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আব্দুল মতিন শহিদ ছেলের মৃত্যুকে পুঁজি করে নানা ধান্ধাবাজি করছেন। তার আর্থিক সামর্থ্য নেই জেনেও শহিদ ছেলের অনুদানের টাকা দিয়ে তিনি বিলাসবহুলভাবে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এমনকি সরকারি বরাদ্দের ৩০ লাখ টাকাও তিনি আমার স্বাক্ষর জাল করে আত্মসাতের চেষ্টা করেছিলেন।
মমতাজ বেগমের দাবি, স্বামী তাকে নানাভাবে চাপ দিচ্ছিলেন ‘বংশরক্ষার’ দোহাই দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য। বর্তমানে তিনি নিজের ও মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত আব্দুল মতিন অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি তার মায়ের অনুরোধে ও বংশরক্ষার তাগিদে বিয়ে করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিয়ে করার সামর্থ্য আমার আছে। আমি দীর্ঘদিনের কর্মসংস্থানের জমানো টাকা দিয়েই বিয়ে করেছি, ছেলের অনুদানের টাকা সেখানে ব্যবহার করা হয়নি। আমি আমার প্রথম স্ত্রীকে একাধিকবার সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছি, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।’ তবে দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম ও পরিচয় জানতে চাইলে তিনি তা প্রকাশ করতে অপারগতা জানান।
এদিকে, শহিদ বাবার এমন কর্মকা-ে ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয়রা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। জুলাইযোদ্ধা রুহুল আমিন রিপন এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি শহিদ পরিবারের জন্য অসম্মানজনক।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী আল নূর আয়াস বলেন, ‘বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। একজন বাবা যদি তার সন্তানকে সত্যিই ভালোবাসতেন, তাহলে এমন পরিস্থিতিতে তিনি দ্বিতীয় বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন না। তাদের ঘরে এক কন্যাসন্তান রয়েছে, বাবা হিসেবে তার দায়িত্ব ছিল সেই মেয়ের ভবিষ্যতের দিকে তাকানো।’

