ঢাকা রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

ময়মনসিংহের ভালুকা রেঞ্জ

বনের জমি দখলে সহযোগিতা করেন বিট কর্মকর্তা মানিক

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ০২:৩৮ এএম

ময়মনসিংহের ভালুকা রেঞ্জের মেহেরাবাড়ি বিট কর্মকর্তা মো. মশফিকুর রহমান মানিকের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে প্রভাবশালী মহলকে বনের জায়গা জবরদখলে সহযোগিতা এবং নিরীহ মানুষকে হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বন বিভাগের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

ভালুকা রেঞ্জের মেহেরাবাড়ি ক্যাম্পের ইনচার্জ ও বিট কর্মকর্তা মো. মশফিকুর রহমান মানিকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের একাংশের ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছিল। সম্প্রতি বন সংরক্ষক (বন ভবন, ঢাকা, মহাখালী) বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, মেহেরাবাড়ি ক্যাম্পের আওতাধীন ধামশুর মৌজার সিএস ১০৪৬ নম্বর দাগের সরকারি বনভূমি জবরদখল করে স্থানীয় বিএনপি নেতা পরিচয়ে মো. রিপন মিয়া গজারী বাগানের ভেতরে টিনশেড ঘর নির্মাণ করেছেন। বিট কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান মানিকের প্রত্যক্ষ প্রশ্রয়েই এই অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কর্মযজ্ঞ চলছে।

এ ছাড়া সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যহারের অভিযোগ রয়েছে মানিকের বিরুদ্ধে। বন এলাকায় যেকোনো ছোটখাটো ঘরবাড়ি বা স্থাপনা নির্মাণ করতে গেলেই তার বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের টাকা দাবির অভিযোগ রয়েছে। দাবীকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালেই বন আইনে মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হয়। এসব অনিয়ম ও হয়রানির প্রতিবাদে কিছুদিন আগে স্থানীয় ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী মহাসড়কের হাজির বাজার এলাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেছেন।

স্থানীয়দের এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত বিট কর্মকর্তা মো. মশফিকুর রহমান মানিক। তার দাবি, বনভূমি অবৈধ দখলমুক্ত করার আক্রোশ থেকেই একটি কুচক্রীমহল তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালাচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ময়মনসিংহের ভালুকা অঞ্চল বরাবরই মূল্যবান গজারি বনের জন্য পরিচিত। স্থানীয় প্রভাবশালী মহল রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে প্রতিনিয়ত বনের জমি দখল করার চেষ্টা চালায়। বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যদি এই দখলদারদের সহযোগিতা করার ন্যূনতম সত্যতাও থাকে, তবে তা রাষ্ট্রীয় সম্পদ সুরক্ষার ক্ষেত্রে বড় ধরনের হুমকি।

তারা বলছেন, বন বিভাগের কর্মকর্তাদের অনেক সময়ই অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং ঘরবাড়ি নির্মাণ রোধে কঠোর হতে হয়। সে ক্ষেত্রে বৈধ উচ্ছেদ অভিযান বা আইনি পদক্ষেপকেও অনেক সময় সংক্ষুব্ধ পক্ষ ‘হয়রানি’ বলে আখ্যায়িত করে থাকে। তবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং মিথ্যা মামলার ভয় দেখানোর অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।

তাদের মতে, সাধারণ মানুষ ও এলাকাবাসী যখন মহাসড়কে নেমে মানববন্ধন করেন, তখন বুঝতে হবে যে ক্ষোভের মাত্রা অনেকদূর গড়িয়েছে। এটি শুধু একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত আচরণ নয়, বরং সামগ্রিক প্রশাসনিক আস্থার সংকটকেও নির্দেশ করে।