গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সরকারি অফিসের চেয়ারে বসে এক তরুণী টিকটিক ভিডিও বানিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে এই তরুণী নিজের টিকটক আইডিতে ভিডিওটা ছাড়েন। এতে দেখা যায়, তরুণী ওই অফিসের চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসে একটি গানের সঙ্গে লিপসিং করছেন। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, পেছনের দেয়ালে লাগানো বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করা চেয়ারম্যানদের নাম ও মেয়াদকাল লেখা একটি নাম ফলক। পাশেই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের লোগোর নিচে লেখা চেয়ারম্যান উপজেলা পরিষদ, গোলাপগঞ্জ সিলেট। তবে গোলাপগঞ্জ শব্দটি আংশিক রয়েছে। টেবিলের বাম পাশে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিয়ে মহান বিজয় দিবসের বানানো একটি ক্রেস্ট। ভিডিওটি প্রায় সাড়ে ৫ হাজার ভিউ হয়। ৫৪২ রি-অ্যাকশন ও ২৮টি কমেন্ট আসে। ভিডিওর কমেন্টে একজন মন্তব্য করেন, ‘অভিনন্দন উপজেলা চেয়ারম্যান সাহেবা।’ তবে এই তরুণীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনজুর কাদির শাফি চৌধুরী এলিম আমেরিকায় চলে যান। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার সারা দেশের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্ত করে। প্রশ্ন উঠেছে, চেয়ারম্যান যেহেতু নেই তাহলে এ অফিসের তালা খুলে কারা টিকটিক ভিডিওর সুযোগ দিল? তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। সিসিটিভি ফুটেজ দেখলেই প্রমাণ পাওয়া যাবে, এ টিকটক ভিডিও করার সুযোগ করে দিল কে বা কারা?
এদিকে এ ঘটনার উপজেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলটন চন্দ্র পাল বলেন, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে তাৎক্ষণিক তিনজনকে শোকজ করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে উপজেলা প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ওই তরুণীর বিরুদ্ধে গোলাপগঞ্জ থানায় জিডি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন, গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান মোল্যা।