× UCB Sticker Card
শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

সানোয়ার হোসেন, মধ্যনগর

প্রকাশিত: মে ১, ২০২৬, ০৬:৪৪ এএম

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর

কাগজে উপজেলা, বাস্তবে শূন্য

সানোয়ার হোসেন, মধ্যনগর

প্রকাশিত: মে ১, ২০২৬, ০৬:৪৪ এএম

কাগজে উপজেলা, বাস্তবে শূন্য

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলাকে প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে ঘোষণার চার বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো সেখানে গড়ে ওঠেনি কোনো পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো। নেই নিজস্ব প্রশাসনিক ভবন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, এমনকি নেই পর্যাপ্ত জনবল। ফলে ২২২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই জনপদে প্রায় দেড় লাখ মানুষের বসবাস থাকলেও উপজেলা পর্যায়ের মৌলিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক সেবা থেকে তারা চরমভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন।

২০২১ সালে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় মধ্যনগরকে উপজেলা করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৪ জুলাই থেকে এখানে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। তবে ঘোষণার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন বা প্রশাসনিক ভবন নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। বর্তমানে উপজেলার ২৩টি সরকারি দপ্তরের জন্য অনুমোদিত ২১২টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। বাকি ২০৩টি পদই এখন পর্যন্ত শূন্য।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অবকাঠামো ও জনবল সংকটের কারণে বর্তমানে কার্যক্রম মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের একতলায় অস্থায়ীভাবে পরিচালিত হচ্ছে। অধিকাংশ দপ্তরের কার্যক্রম পাশের ধর্মপাশা উপজেলা থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে নিয়মিত সেবা গ্রহণে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্তমানে মধ্যনগরে প্রকৌশলী, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, নির্বাচন কর্মকর্তা ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ প্রথম শ্রেণির মাত্র চারজন কর্মকর্তা কর্মরত রয়েছেন। এ ছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির মাত্র পাঁচজন কর্মচারী দিয়ে কোনোমতে দাপ্তরিক কাজ চালানো হচ্ছে।

এদিকে উপজেলার স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। দেড় লাখ মানুষের জন্য এখানে নেই কোনো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং নেই একজনও এমবিবিএস চিকিৎসক। যদিও দুটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র এবং দুটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে, কিন্তু সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর চরম ঘাটতি রয়েছে। ফলে সাধারণ চিকিৎসা ও জরুরি সেবার জন্য এলাকাবাসীকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে ধর্মপাশা উপজেলা কিংবা সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। বর্ষাকালে যাতায়াতব্যবস্থা আরও দুর্গম হয়ে ওঠায় রোগীদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উপজেলা ঘোষণার পর কাঠামোগত উন্নয়ন কার্যত থমকে রয়েছে। মধ্যনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ নাজমুল হোসাইন বলেন, ‘মধ্যনগরকে পূর্ণাঙ্গ ও মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু চার বছরেও কাক্সিক্ষত অগ্রগতি নেই। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।’

উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল কাইউম মজনু বলেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রশাসনের আরও আন্তরিক হওয়া দরকার।

এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, ‘প্রশাসনিক ভবন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ১৬ একর জমির প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে আশা করছি।’

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানান, উপজেলা কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প একনেকে পাস হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কার্যক্রম দ্রুত শুরু করতে আমরা কাজ করছি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য নতুন করে ১০ একর জায়গার প্রস্তাব পাঠানো হবে।’

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!