টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সুরমা চা বাগান এলাকায় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রবল বৃষ্টির পানির তোড়ে বাগানের ভেতরের ছড়া, পাহাড়ি পথ, ছোট-বড় সেতু, কালভার্ট ও পুরাতন সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে তছনছ হয়ে গেছে। এতে চা শ্রমিক, স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিনের টানা বর্ষণে পাহাড়ি ঢলের কারণে বিভিন্ন স্থানে মাটি ধস শুরু হয়। বালুমিশ্রিত দোঁআশ মাটি ধসে ছড়ার পাড় ভেঙে পড়ে। সাতছড়ি ছড়া থেকে ১০ নম্বর মালডুবা এলাকা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অংশ ছড়ার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে চা বাগানের ভেতরের রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি চা গাছ ও আবাদি জমিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের তোড়ে মাহঝিল এলাকার ছোট একটি সেতু ধসে পড়েছে। এ ছাড়া বাগানের তিন বাংলার সামনে থাকা আরও দুটি ছোট সেতুও ভেঙে যায়। এতে শ্রমিকদের দৈনন্দিন যাতায়াতে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা বাঁশ ও কাঠ দিয়ে অস্থায়ী চলাচলের ব্যবস্থা করছেন। এদিকে, ২০ নম্বর এলাকায় যাওয়ার পথে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর সংযোগ সড়ক পাহাড়ি ঢলে ভেঙে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। তবে আকস্মিক ক্ষয়ক্ষতিতে প্রকল্পটি আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
২০ নম্বর গ্রামের বাসিন্দা টিংকু সাঁওতাল বলেন, ‘পাঁচ বছর ধরে ধীরগতিতে কাজ চলছিল। এক মাসের মধ্যে চালু হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু এখন সংযোগ সড়ক ভেঙে গেছে। আবার নতুন করে মেরামত করতে হবে।’
স্থানীয় বাসিন্দা বিশ্বনাথ তাতী বলেন, ‘এবারের পাহাড়ি ঢলে অন্তত চারটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক জায়গায় জমি ভেঙে গেছে। পুরাতন মহাসড়কের অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।’
বাগানের ম্যানেজার বাবুল সরকার জানান, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বিভিন্ন স্থাপনা, সড়ক ও সেতুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং জরুরি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়রা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন