রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ভেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের ভেন্ডাবাড়ি গ্রামের সোনামতি খালের ওপর নির্মিত একটি সেতু এখন কৃষকদের জন্য যেন কোনো উপকারেই আসছে না। প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুর দুই পাশে নেই কোনো সংযোগ সড়ক। চারদিকে শুধু ফসলি জমি থাকায় সেতুটি ব্যবহার করতে পারছেন না স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর দুই পাশের জমি থেকে সংযোগ অংশ উঁচু হয়ে থাকায় এবং চলাচলের উপযোগী রাস্তা না থাকায় উৎপাদিত ফসল পরিবহনেও কোনো কাজে আসছে না এটি। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত সেতু এখন অনেকটা অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সোনামতি খালের ওপর নির্মিত সেতুটির পূর্ব পাশে একটি সরু পায়ে চলার পথ রয়েছে। তবে পশ্চিম পাশে রয়েছে শুধু আবাদি জমি। সেতুতে ওঠানামার জন্য নেই কোনো স্থায়ী পথ।
জমিতে কাজ করা কৃষক লাল মিয়া বলেন, ‘রাস্তা না থাকায় সেতুটি আমাদের কোনো কাজে আসছে না। তার ওপর সেতুর দুই মুখ জমি থেকে উঁচু হওয়ায় ফসল নিয়ে চলাচল করতে অনেক কষ্ট হয়।’
কৃষক রমজান আলী বলেন, ‘ফসল উৎপাদন করার পর বাজারে নিয়ে যেতে হয়। কিন্তু রাস্তার অভাবে সেতু ব্যবহার করতে পারি না। ফলে অতিরিক্ত কষ্ট ও খরচ করে ফসল বহন করতে হয়।’
স্থানীয় কৃষক সবুজ মিয়া জানান, সেতুটির আশপাশে প্রায় ১৫০ একর জমি রয়েছে। এ এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি শ্মশানও রয়েছে। খাল ও সোনামতি নদী বেষ্টিত হওয়ায় কৃষকদের জন্য এই সেতু দিয়ে চলাচলের সুযোগ তৈরি হলে অনেক উপকার হতো।
এলাকাবাসী জানান, সেতুর উত্তর দিকে মূল সড়ক থাকলেও সেতু পর্যন্ত কোনো প্রশস্ত রাস্তা নেই। জমির পাশ দিয়ে একটি ছোট পথ রয়েছে, কিন্তু সেটি যানবাহন চলাচলের উপযোগী নয়। দক্ষিণ পাশেও রয়েছে ধানখেত।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কৃষক বলেন, ‘কয়েকজন জমির মালিক রাস্তার জন্য জায়গা না দেওয়ায় সেতু পর্যন্ত রাস্তা তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না।’ জানা গেছে, ভূ-উপরিস্থ পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন ও সেচ দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আওতায় ২০২০-২১ অর্থবছরে পীরগঞ্জ উপজেলায় চারটি সেতু নির্মাণ করে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। মাঠ থেকে কৃষকদের ফসল আনা-নেওয়ার সুবিধার জন্য এসব সেতু নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে সোনামতি খালের ওপর নির্মিত সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৮ লাখ ৩ হাজার টাকা।
তবে বিএডিসি রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী (নির্মাণ) হুসাইন মোহাম্মদ আলতাফ বলেন, ‘খালের ওপর নির্মিত সেতুটি মূলত ফুটওভারব্রিজ। এর ওপর দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচলের কথা নয়। খাল পারাপারের জন্য এটি নির্মাণ করা হয়েছে। কৃষকরা হেঁটে ফসল নিয়ে সেতু দিয়ে চলাচল করবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রকল্পে আলাদা ব্যয় রাখা হয়নি। তবে মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য সেতুর দুই প্রান্ত মাটি দিয়ে উঁচু করা হয়েছিল। বর্তমানে হয়তো মাটি ধসে গেছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিএডিসির প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থে নির্মিত এই সেতুটি যেন সত্যিকার অর্থে কৃষকদের কাজে লাগে, সে জন্য দ্রুত সংযোগ পথ সংস্কার ও চলাচলের উপযোগী ব্যবস্থা করা হোক।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন