ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বিদ্যুতের তীব্র সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় দিনের বেশির ভাগ সময় লোডশেডিংয়ের মধ্যে কাটছে উপজেলার বাসিন্দাদের। প্রচ- গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বৈরী আবহাওয়া না থাকলেও কয়েকদিন ধরে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। অনেক এলাকায় কয়েক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। আবার বিদ্যুৎ এলেও স্থায়ী হচ্ছে না।
নবীনগর পল্লী বিদ্যুতের জোনাল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় বর্তমানে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৬ মেগাওয়াট। বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতির কারণে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
নবীনগর পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসের ডিজিএম মোহাম্মদ ওয়াদুদ হোসেন বলেন, ‘উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৬ মেগাওয়াট। কিন্তু বর্তমানে আমরা পাচ্ছি মাত্র ৮ মেগাওয়াটের মতো। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কম থাকায় নির্ধারিত সময়ের বাইরেও লোডশেডিং করতে হচ্ছে।’
উপজেলা সদরের ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে। ফ্রিজ, কুলারসহ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি সচল রাখতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা। বিশেষ করে খাবার ও ঠান্ডা পানীয় বিক্রেতারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা জানান, গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। রাতে লোডশেডিংয়ের কারণে ঘুমের সমস্যাও হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, লোডশেডিংয়ের নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় কখন বিদ্যুৎ থাকবে বা যাবে তা বোঝা যাচ্ছে না। এতে দৈনন্দিন কাজের পরিকল্পনাও ব্যাহত হচ্ছে।
ডিজিএম মোহাম্মদ ওয়াদুদ হোসেন আরও বলেন, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত লোডশেডিং অব্যাহত থাকতে পারে। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করে জনদুর্ভোগ কমানোর দাবি জানিয়েছেন নবীনগরের ভুক্তভোগী বাসিন্দারা।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন