ঢাকা রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

অবশেষে মুক্ত হচ্ছে রঙিখাল

পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ০৩:৩৪ এএম

দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে প্রভাবশালী দখলদারদের কবলে বন্দি থাকার পর অবশেষে মুক্ত হতে চলেছে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের ঐতিহাসিক রঙিখাল। কৃত্রিম জলাবদ্ধতা নিরসন এবং খালটিকে তার পূর্বের প্রবাহে ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে সাঁড়াশি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। গতকাল শনিবার কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী) আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদের নির্দেশনায় এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের শুরুতে কাজির মার্কেট এলাকার একটি বড় অবৈধ বাঁধ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। খালের স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরায় শুরু হওয়ায় দীর্ঘদিনের চরম দুর্ভোগ শেষে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন মগনামা ইউনিয়নের অন্তত ১০ হাজার বাসিন্দা।

ব্রিটিশ আমলে খনন করা রঙিখালটি একসময় উপজেলার শুদ্ধখালী, এবাদুল্লাপাড়া, মৌলভীদিয়া, কালারপাড়া, বেদারবিলপাড়া ও কুদাইল্লাদিয়া এলাকার পানি নিষ্কাশনের একমাত্র প্রধান পথ ছিল। কিন্তু গত দেড় দশক ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র খালের মুখে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে মাছের ঘের ও খামার গড়ে তুলে সরকারি এই জমি জবরদখল করে রেখেছিল। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকার ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কবরস্থান প্লাবিত হয়ে মারাত্মাক কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো। অভিযানস্থলে দাঁড়িয়ে নিজেদের দীর্ঘদিনের কষ্টের কথা তুলে ধরেন স্থানীয় গৃহিণী ফাতেমা বেগম (৪২)। তিনি বলেন, এই বাঁধের কারণে এতদিন সামান্য বৃষ্টিতেই আমাদের ঘরবাড়ি ও ফসল ডুবে যেত। এমনকি কেউ মারা গেলে দাফনের জন্য শুকনো মাটিও পাওয়া যেত না। খালের প্রবাহ ফেরায় এলাকার জীবনযাত্রা ও জীবিকা আবার স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। স্থানীয় কৃষক শফিউল আলম (৫৫) বলেন, আজকের এই উচ্ছেদের ফলে রঙিখালে মাছ ধরে সাধারণ মানুষ আবার জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন। তবে শুধু বাঁধ অপসারণই যথেষ্ট নয়, উল্লেখ করে তিনি সরকারি জমি চিরতরে উদ্ধার এবং খালটি দ্রুত পুনঃখননের জোরালো দাবি জানান। যাতে ভবিষ্যতে কোনো প্রভাবশালী মহল এটি আর দখলের সাহস না পায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় মৃত আক্তার কামালের ছেলে মানিক চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে কাজির মার্কেট ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় অবৈধভাবে এই বাঁধ নির্মাণ করে রেখেছিলেন। গতকাল বেলা ১১টায় মগনামা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ইউনুস চৌধুরীর নেতৃত্বে এই অবৈধ বাঁধটি উচ্ছেদ করা হয়।

অভিযান শেষে ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইউনুস চৌধুরী জানান, জনস্বার্থে কোনো দখলদারকে বিন্দুমাত্র ছাড় না দেওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বর্তমান প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপে রঙিখালকে পুরোপুরি দখলমুক্ত করতে মাঠে নামা হয়েছে। এই কার্যক্রমে মোট ৫৮টি অবৈধ বাঁধ ও জাল অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে শনিবার পর্যন্ত ১৩টি বাঁধ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রঙিখাল সম্পূর্ণ দখলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে।