কুমিল্লায় খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক সরবরাহ করা পাটের বস্তা সংকটের কারণে বোরো মৌসুমের সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ অভিযান বন্ধ থাকায় দাউদকান্দির কৃষকেরা বিপাকে। সূত্রে জানায়, খাদ্য গোডাউনের নির্ধারিত সময়ের প্রায় অর্ধেক সময় কেটে গেলেও ধান সংগ্রহ অর্জন এখন পর্যন্ত চার ভাগের এক অংশ। উপজেলার কৃষকেরা সরকারি দামে গোডাউনে ধান দিতে না পারায় ভোগান্তিতে পড়ে হতাশায় ভুগছেন। সূত্র জানায়, গত ১৬ মে ৩৬ টাকা কেজিতে মৌসুমি ধান ক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে ৮০০ কৃষকের তালিকা নির্ধারণ এবং প্রতিজন কৃষক ৭৫ মণ করে ধান দেওয়ার কথা জানানো হয়। পরে ৮০০ কৃষকের মধ্যে বস্তা সংকটের কারণে ৫৪ জন তাদের ধান গোডাউন কর্তৃপক্ষের কাছে বিক্রি করেন। বাকি ৭৪৬ কৃষক বস্তা সংকটের কারণে ধান বিক্রি করতে না পারায় তারা ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। কোনো কোনো কৃষক গোডাউনে ধান নিয়ে তিন থেকে চার দিন বসে থাকলে ধান নিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। জানা যায়, ১৬ মে দাউদকান্দি উপজেলা খাদ্য গোডাউন আনুষ্ঠানিকভাবে মৌসুমের ধান সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন করেন। তাদের এই ধান সংগ্রহ চলবে ৩০ জুলাই পর্যন্ত। ভরণপাড়া গ্রামের কৃষক ওমর ফারুক সরকার বলেন, গুদামে ধান নিয়ে এসে জানতে পারেন বস্তা নেই। ফলে ওই ধান আবার ফিরিয়ে নিতে হয়েছে। আবার, অনেকেই গুদামে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, বর্তমানে বস্তা নেই। ফলে, তারা ধান আনতেই পারেননি। মনগৈর কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, মঙ্গলবার গোডাউনে ধান নিয়ে এসেছিলাম বিক্রির জন্য। গোডাউনে বস্তা না থাকায় চার দিন পর শুক্রবার ফিরে এসেছি।
কয়েকজন কৃষক বলেন, গৌরীপুর, ইলিয়টগঞ্জ হাটে প্রতি কেজি ধানের দাম ৩০ টাকা কেজি ধরে ১ মণ ধানের দাম ১ হাজার ২০০ টাকা। আর দাউদকান্দি খাদ্য গোডাউনে ৩৬ টাকা কেজি ধরে ১ মণ ধানের দাম ১ হাজার ৪৪০ টাকা। অর্থাৎ, প্রতি মণে ২৪০ টাকা বেশি। এ কারণে কৃষকেরা বাজারে বিক্রির চেয়ে গোডাউনে বিক্রিতে আগ্রহী বেশি। শনিবার এ বিষয়ে খাদ্য গোডাউনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, ১৬ মে আনুষ্ঠানিকভাবে গোডাউনের ধান কেনা শুরু হলেও গোডাউনে যা কিছু বস্তা ছিল, তা দিয়ে ৫৪ জন কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনতে পেরেছিলাম। গোডাউনে ১ হাজার পিস বস্তা হলে এবারে আমাদের ধান কেনার লক্ষ্যমাত্র অর্জিত হবে।

