ঠাকুরগাঁওয়ে মোটরসাইকেল রাখা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের শিবগঞ্জ মহেষপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাদ হোসেন।
আহতরা হলেন—শিবগঞ্জ মহব্বতপুর কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও মহেষপুর চৌধুরীবাড়ি জামে মসজিদের ইমাম আবু সাঈদ (৩২), ওই এলাকার ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জামিল সরকার সাদ্দাম (৩০) এবং খোরশেদ আলীর স্ত্রী সেলিনা বেগম (৪৫)। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আবু সাঈদ জামায়াত সমর্থিত কর্মী।
এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার বিকেলে কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি, জামায়াতের শূরা সদস্য ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন নির্বাচনি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মহেষপুর গ্রামে তার আত্মীয় আবু সাঈদের বাড়িতে যান। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল বাড়ির আশপাশে রাখা হয়। উঠান বৈঠক শেষে দেলাওয়ার হোসেন ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এরপর মোটরসাইকেল রাখাকে কেন্দ্র করে আবু সাঈদের সঙ্গে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জামিল সরকার সাদ্দাম ও আরেক কর্মী সেলিম রেজার মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে বিষয়টি হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে সেলিম রেজার মা সেলিনা বেগম ঘটনাস্থলে গেলে তিনিও আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। বর্তমানে আহতরা চিকিৎসাধীন।
আহত শিক্ষক আবু সাঈদ অভিযোগ করে বলেন, আমার বাড়িতে দেলাওয়ার হোসেন এসেছিলেন। তিনি কিছু সময় আলোচনা করে চলে যান। বাইরে কয়েকটি মোটরসাইকেল রাখা ছিল। এ নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের জামিল সরকার সাদ্দাম বাজে ভাষায় গালাগাল শুরু করেন। আমি প্রতিবাদ করলে তিনি বলেন, এটা বিএনপির এলাকা; এখানে জামায়াত কথা বলতে পারবে না। পরে সাদ্দাম ও সেলিম আমার দিকে তেড়ে আসে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘এক পর্যায়ে তারা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমাকে আঘাত করে। তাদের সঙ্গে থাকা সেলিনা বেগমও আমার গায়ে হাত তোলেন।’
অন্যদিকে জামিল সরকার সাদ্দাম বলেন, ‘আমার বাড়ির পাশে জামায়াতের একটি মিটিং ছিল। আমার এলাকার ভেতরে ৫০-৬০টি মোটরসাইকেল ঢুকে পড়ে। ঝামেলা এড়াতে আমি অনুরোধ করি যেন তারা অন্যত্র মোটরসাইকেল রাখে। পরে দেলাওয়ার হোসেন চলে যান।’
তিনি আরও বলেন, ‘এরপর আবু সাঈদ এসে আমাকে হুমকি দিতে শুরু করে। তিনি আগে ১৭ বছর আওয়ামী লীগ করতেন, এখন জামায়াতে যোগ দিয়েছেন। এক পর্যায়ে তারা আমাকে মারধর করে এবং ক্ষুর দিয়ে আঘাত করে। এতে আমি, আমার ভাই সেলিম ও তার মা আহত হই।’
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাদ হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা জানতে পেরেছি। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে এ ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

-20260119060106.webp)

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন