৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় দেশীয় ঐতিহ্য ও আধুনিক নকশার সমন্বয়ে তৈরি পাটপণ্য দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কেড়েছে। সোনালি আঁশের তৈরি ব্যাগ, কার্পেট, জুতা, ঝুড়ি থেকে শুরু করে ঘর সাজানোর নানা উপকরণ দেখতে স্টলগুলোতে ভিড় জমালেও কাঙ্ক্ষিত বেচাকেনা না হওয়ায় হতাশ উদ্যোক্তারা।
মেলার বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্যাভিলিয়নসহ বিভিন্ন স্টলে সাজানো হয়েছে পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ, শতরঞ্জি, পর্দা, ফুলদানি, চেয়ার, কুশন কভার, গয়নার বাক্স ও শো-পিসসহ নান্দনিক সব পণ্য। আধুনিক ডিজাইনের সঙ্গে আবহমান বাংলার ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় তৈরি এসব পণ্য ধীরে ধীরে নগর জীবনে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মেলায় ঘুরতে আসা এক ক্রেতা বলেন, পাটের তৈরি পণ্য সাধারণ বাজারে খুব একটা পাওয়া যায় না। এখানে এসে পছন্দ হয়েছে, তাই কয়েকটি জিনিস কিনেছি। আরেক দর্শনার্থীর মতে, পাট আমাদের দেশের সোনালি আঁশ হলেও পর্যাপ্ত প্রচারের অভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে এর সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

তবে দর্শনার্থীর ভিড় থাকলেও বিক্রি আশানুরূপ নয় বলে জানান বিক্রেতারা। তাদের ভাষ্য, অনেকেই পণ্য দেখছেন, আগ্রহ প্রকাশ করছেন, ছবি তুলছেন, কিন্তু কেনাকাটা করছেন তুলনামূলক কম। এক বিক্রেতা বলেন, মানুষের আগ্রহ আছে, কিন্তু বিক্রি কম। আশা করছি মেলার শেষ দিকে এসে বেচাকেনা কিছুটা বাড়বে।
উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছাড়া দর্শনার্থীর সংখ্যা কম থাকায় বিক্রি ব্যাহত হচ্ছে। তারা মনে করেন, পাটপণ্যের গুরুত্ব ও পরিবেশবান্ধব দিকগুলো নিয়ে আরও ব্যাপক প্রচার হলে দেশীয় এই শিল্প টেকসইভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
মাসব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মেলা চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্দা নামবে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন