× UCB Sticker Card
শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

কালীগঞ্জ (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মার্চ ১৬, ২০২৬, ০৪:২২ পিএম

ঈদ ঘিরে জুতা তৈরির কারখানায় কারিগরদের ব্যস্ততা

কালীগঞ্জ (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মার্চ ১৬, ২০২৬, ০৪:২২ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে জমে উঠেছে জুতা ও স্যান্ডেলের বাজার। ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন পাদুকা কারখানার শ্রমিকরা। সুনিপুণ হাতে তৈরি হচ্ছে বাহারি ডিজাইনের নানা ধরনের পাদুকা।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ‘জিরোপয়েন্ট’ এলাকায় গড়ে ওঠা একমাত্র চামড়াজাত জুতা তৈরির কারখানাটি হলো ‘বর্ষা সু’। ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দিনরাত পরিশ্রম করে জুতা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা।

কারখানার মালিক বলছেন, প্রতি মাসে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার বেশি বিক্রি হয়। এর থেকে কারিগরদের মজুরিসহ সব খরচ বাদ দিয়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ থাকে।

কারিগর বজলু মিয়া জুতার ফাইনাল বা সোলের কাজ করেন। তিনি ডজন হিসেবে কাজ করেন। এক ডজন সোলের কাজ করলে মজুরি পান ৮৫০ টাকা। দিনে এক থেকে দেড় ডজন জুতার কাজ করতে পারেন।

কারিগরদের সুনিপুণ হাতে তৈরি হচ্ছে এক একটি জুতা। কেউ জুতার সোল কাটতে ব্যস্ত, আবার কেউ তা গাম লাগিয়ে প্রিন্টিং ও ফিনিশিংয়ের কাজে মনোযোগ দিয়ে যাচ্ছেন। ছোট এই কারখানাটিতে কর্মব্যস্ত পরিবেশের মধ্যেই তৈরি হচ্ছে দেশীয় মানের টেকসই পাদুকা।

জানা যায়, এই জুতা (পাদুকা) কারখানার উদ্যোক্তা বিমল দাস জীবন। তার বাড়ি কাকিনা পোনাহাটি এলাকায়। শুরুতে তিনি একাই পাদুকার ব্যবসা শুরু করেন। তবে তাঁর স্বপ্ন ছিল একদিন নিজ এলাকায় একটি পাদুকা কারখানা গড়ে তুলবেন এবং গ্রামের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবেন। দীর্ঘদিনের সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। বর্তমানে তাঁর এই কারখানায় প্রায় ছয় থেকে সাতজন কর্মচারী কাজ করছেন। স্থানীয় কয়েকজন বেকার যুবক এখানে কাজ করে নিজেদের জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পেয়েছেন।

কারখানার মালিক বিমল দাস বলেন, ‘নয় বছর ধরে আমরা এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি। নিজেরা জুতা তৈরি করি এবং পাইকারি বিক্রি করি। কুড়িগ্রাম, রংপুরসহ আশপাশের জেলা থেকে দোকানিরা আমাদের তৈরি জুতা নিয়ে যায়। কাঁচামাল কিনতে হয় গুলিস্তান ও বংশাল থেকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নয় বছর আগের তুলনায় এখন খুব সামান্য লাভ হয়। কোনো সহায়তা নেই। আমার স্বপ্ন এখানে মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হোক। আমাদের প্রতিষ্ঠানে যদি কম সুদের ঋণের মতো প্রণোদনা দেওয়া হয়, তবে আমরা আরও ভালো কিছু করতে পারব।’

স্থানীয় রঞ্জু মিয়া বলেন, ‘আমি এখান থেকে নিয়মিত চামড়ার জুতা ও স্যান্ডেল কিনে ব্যবহার করি। এখানে যার দাম ৪০০ টাকা, বাজারের অন্য দোকানে তা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা বা তারও বেশি। বাজার থেকে কিনে অনেক সময় প্রতারণার শিকার হতে হয়। প্যাকেটে এক রকম, বাস্তবে অন্য রকম। এখানে অর্ডার দিয়েও জুতা বানিয়ে নেওয়া যায়। এখানে প্রতারিত হওয়ার কোনো বিষয় নেই।’

ক্রেতারা জানান, এই কারখানায় তৈরি জুতাগুলো বেশ টেকসই এবং বাজারের তুলনায় দামও তুলনামূলক কম। স্থানীয়ভাবে তৈরি হওয়ায় এসব জুতার প্রতি মানুষের আগ্রহও বাড়ছে।

স্থানীয়দের আশা, যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে কাকিনায় গড়ে ওঠা জুতার এই কারখানাটি ভবিষ্যতে বড় শিল্পে পরিণত হতে পারে। এতে এলাকার অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

Link copied!