যশোরের বেনাপোল পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বড়আঁচড়া ঈদগাহ থেকে চারাবটতলা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বর্তমানে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চলাচলের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
ড্রেনেজ নির্মাণের নামে রাস্তা খুঁড়ে দীর্ঘ ছয় মাস ফেলে রাখায় ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকেরা।
জানা যায়, গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর বেনাপোল পৌরসভার পক্ষ থেকে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের কথা বলে রাস্তার একপাশ খুঁড়ে রাখা হয়। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও রাস্তাটি সংস্কার বা ড্রেন নির্মাণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি পৌর কর্তৃপক্ষ।
খুঁড়ে রাখা গর্তের কারণে নতুন পাকা সড়কের বিভিন্ন অংশ ধসে গিয়ে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দুই কিলোমিটার এ পথে রিকশা, ইজিবাইক ও জরুরি যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
রাস্তার পাশে রয়েছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। বর্তমানে বোরো মৌসুম চললেও রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে কৃষকেরা জমিতে সার, কীটনাশক ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ নিয়ে যেতে পারছেন না। একই সঙ্গে উৎপাদিত ফসল বাজারে নেওয়া ও ক্ষেতের পরিচর্যায়ও তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
চারাবটতলা এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে ক্রেতারা এ পথে আসতে চান না, ফলে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, পৌরসভা রাস্তা খুঁড়ে রাখার পর আর কেউ খোঁজ নেয়নি। আমরা বোরো ধানের আবাদ নিয়ে খুব চিন্তায় আছি। সার-বীজ নিয়ে জমিতে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই।
দীর্ঘ ছয় মাস পার হয়ে গেলেও কাজ শুরু না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। জনবহুল এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দ্রুত মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে বেনাপোল পৌরসভার প্রকৌশলী মো. মোশারফ হোসেন বলেন, ড্রেনেজ প্রকল্পটির ডিজাইন উন্নত করার লক্ষ্যে কিছুটা সময় বিলম্বিত হচ্ছে। আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যে রাস্তা ও ড্রেনেজের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন