দেশের অন্য জায়গায় জ্বালানি সংকট পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। সেখানে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে খুচরা পর্যায়ে বেশি দামে জ্বালানি তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
উপজেলার ঘিলাছড়ি, গাইন্দ্যা, বাঙ্গালহালিয়া ও ইসলামপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুচরা ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত কোনো মূল্যতালিকা মানছেন না। ফলে একই এলাকায় বিভিন্ন দোকানে ভিন্ন ভিন্ন দামে তেল বিক্রি হচ্ছে। এতে বাজারে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় ক্রেতারা জানান, প্রতি লিটার অকটেনের দাম কোথাও ১৪০ টাকা, কোথাও ১৫০ থেকে ১৯০ টাকা, আবার কোথাও ২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে কিছু দোকানে ১৩০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে। দামের এই বড় পার্থক্যে ক্রেতারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে বেশি দামে তেল কিনছেন।
পরিবহনচালকরা বলছেন, বেশি দামে জ্বালানি কিনতে গিয়ে তাদের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে ভাড়ায়, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ যাত্রীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। একইভাবে কৃষিকাজ ও নৌযান চালনায় জ্বালানিনির্ভর মানুষও পড়েছেন বিপাকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকটের কথা বলে তেল মজুত রেখে পরে বেশি দামে বিক্রি করছেন। আবার কেউ কেউ সুযোগ নিয়ে ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করছেন। এতে বাজারে অস্থিতিশীলতা বাড়ছে এবং সরবরাহব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা কমছে।
স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, প্রশাসনের নিয়মিত তদারকির অভাবেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, নিয়মিত বাজার পরিদর্শন, মূল্যতালিকা যাচাই এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম জোরদার করা হলে এমন পরিস্থিতি এড়ানো যেত।
ভুক্তভোগীরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান। তাদের দাবি, জ্বালানি তেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যে অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধি বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
উল্লেখ্য, সাময়িক জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত মুনাফা নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। রাজস্থলীর পরিস্থিতি তারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



