শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৯, ২০২৫, ০৯:৪৪ এএম

কোম্পানির মোড়কে বিক্রি হচ্ছে নিবন্ধনহীন ও মানহীন জৈব সার

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৯, ২০২৫, ০৯:৪৪ এএম

কারখানাগুলো বছরের পর বছর ধরে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই অবাধে সার উৎপাদন করে যাচ্ছে।      ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

কারখানাগুলো বছরের পর বছর ধরে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই অবাধে সার উৎপাদন করে যাচ্ছে। ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

চুয়াডাঙ্গার চার উপজেলায় নিয়ন্ত্রণহীনভাবে গড়ে উঠেছে অন্তত ৩২টি জৈব ও ভার্মি কম্পোস্ট কারখানা। বিস্ময়কর হলেও সত্য-এসবের মধ্যে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মাত্র ৫টি। বাকি কারখানাগুলো বছরের পর বছর ধরে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই অবাধে সার উৎপাদন করে যাচ্ছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে আরও চমকপ্রদ অনিয়ম। এসব নিবন্ধনহীন কারখানায় উৎপাদিত নিম্নমানের সার দেশের বাজারে বিক্রি হচ্ছে এসিআই, ব্র্যাক, নাজীমসহ নামিদামী কোম্পানির বস্তায়।

অর্থাৎ-কারখানার ভিতরে যেটা তৈরি হয়, বাজারে সেটাই পৌঁছাচ্ছে ভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে, ভিন্ন পরিচয়ে। এ যেন ব্র্যান্ডিংয়ের আড়ালে প্রকাশ্য প্রতারণা।

একদিকে নেই সরকার অনুমোদন-অন্যদিকে নেই গুণগত মান পরীক্ষার ন্যূনতম ব্যবস্থা। ফলে সার আসলে কতটা কার্যকর বা কৃষিজমির জন্য ক্ষতিকর-তা জানার উপায় নেই। এই অরাজকতার দায় কারখানা মালিকদের পাশাপাশি নজরদারিহীন সরকারি ব্যবস্থার ওপরও বর্তায়।

কারখানা মালিকদের একাংশ দাবি করছে-লাইসেন্স না পাওয়ায় উৎপাদিত সার সরাসরি বাজারজাত করা সম্ভব হয় না; তাই নামিদামী কোম্পানিগুলো চুক্তি করে তাদের সার কিনে নিয়ে নিজের নামে বিক্রি করে। তবে এ দাবি থেকেই স্পষ্ট-নামীদামী কোম্পানির সঙ্গে আঁতাত ছাড়া এমন বিস্তৃত অবৈধ বাণিজ্য সম্ভব হতো না।

কৃষকদের নিয়ে কাজ করা একটি এনজিও কর্মী ও কৃষক সংগঠনের নেতা বলছে-লাইসেন্সবিহীন এবং অনিয়ন্ত্রিত এই সার ব্যবহারে দেশের কৃষক সমাজ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

কৃষকজোটের সেক্রেটারি শাহাজাহান আলী বলেন, চুয়াডাঙ্গার অধিকাংশ জৈব সার কারখানাই লাইসেন্সবিহীন। মান নিয়েও বড় প্রশ্ন আছে। অথচ এসব কারখানার সার ভিন্ন কোম্পানির মোড়কে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে কৃষক উপকৃত হয় না, বরং প্রতারিত হয়।

কৃষকদের নিয়ে কাজ করা এনজিও রিসো’র নির্বাহী পরিচালক জাহিদুল ইসলাম জানান, যেহেতু এসব সার দেশের নামিদামী ব্র্যান্ডের মাধ্যমে সারাদেশে বিক্রি হচ্ছে, তাই কারখানাগুলোর বৈধ কাগজপত্র ও মান যাচাই বাধ্যতামূলক হওয়া জরুরি।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলছেন-যে অনিয়ম বছরের পর বছর ধরে চলছে, তা দেখার দায়িত্ব কার? লাইসেন্স ছাড়া কারখানা চালু রেখে বড় বড় ব্র্যান্ডের নামে সার বাজারজাত করার মতো বড় ধরনের বাণিজ্যিক দুর্নীতি কিভাবে এতদিন অদৃশ্য রইল?

সচেতনমহল মনে করেন-জৈব সার শিল্পকে সঠিক পথে আনতে হলে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা, উৎপাদন মান নিশ্চিত করা এবং বড় কোম্পানিগুলোর অস্বচ্ছ ক্রয়-বিক্রয় নেটওয়ার্কের ওপর কঠোর নজরদারি দরকার। নাহলে কৃষি খাতের এই অস্বচ্ছ বাণিজ্য আরও ভয়ংকর আকার ধারণ করবে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!