‘মাত্র ৭ দিনে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ’, ‘১০ বছরের বাত চিরতরে নির্মূল’, ‘যৌন দুর্বলতার শতভাগ স্থায়ী সমাধান’, ‘কিডনি-লিভারসহ সব রোগের গ্যারান্টিযুক্ত চিকিৎসা’— এমন অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিয়ে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে কথিত হারবাল ওষুধ। অসুস্থ ও অসহায় মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা চালিয়ে গেলেও কার্যকর নজরদারির অভাবের অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার ধাপ সুলতানগঞ্জ সাপ্তাহিক হাটে দেখা যায়, মাইকিং করে রোগমুক্তির নানা চটকদার দাবি তুলে মানুষ জড়ো করা হচ্ছে। এরপর নিজেদের আন্তর্জাতিক মানের গবেষক, অভিজ্ঞ হাকিম কিংবা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন বোতল, ক্যাপসুল, তেল ও গুঁড়াজাতীয় পণ্য বিক্রি করছেন তারা। উপস্থিত কয়েকজনকে সাধারণ ক্রেতা সেজে ওষুধের প্রশংসা করতেও দেখা যায় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী আব্দুল গফুর জানান, কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার টাকা খরচ করেও কোনো সুফল পাননি। বরং অনেকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। পরে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে তারা জানতে পারেন, এসব পণ্যের কার্যকারিতা বা সরকারি অনুমোদনের নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই।
জেলা ওষুধ প্রশাসনের কর্মকর্তা মরুময় সরকার বলেন, কোনো ওষুধ বাজারজাতের আগে গবেষণা, ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা ও সরকারি অনুমোদন বাধ্যতামূলক। এসব প্রক্রিয়া ছাড়া কোনো ওষুধ বৈধভাবে বিক্রি করা যায় না। হাটে বিক্রি হওয়া কথিত হারবাল পণ্যের ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়ার প্রমাণ পাওয়া যায় না।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, রোগ নির্ণয় ছাড়া ওষুধ সেবন গুরুতর ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা এসব অননুমোদিত ওষুধ সেবন করলে জটিলতা বেড়ে যেতে পারে। দ্রুত ফল দেখানোর নামে অনেক পণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক বা নিষিদ্ধ স্টেরয়েড মেশানোর আশঙ্কাও রয়েছে।
দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানবাধিকার সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, শুধু অভিযান নয়, জনসচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। মানুষের অজ্ঞতা ও দ্রুত সুস্থ হওয়ার আকাঙ্ক্ষাকেই পুঁজি করে এই প্রতারণা টিকে আছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এক হাট থেকে আরেক হাটে ঘুরে একই কৌশলে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে এসব ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতারণামূলক এই বাণিজ্য বন্ধে নিয়মিত অভিযান, কঠোর আইনি ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।

