ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই, ২০২৬

ভারতে গরু জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে থালাপতি

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬, ১২:২২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে গরু ও বাছুর জবাই নিষিদ্ধ করে মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়।

বুধবার (১ জুলাই) ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম জানায়, তিনি সুপ্রিম কোর্টে ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।

বিজয়ের দল টিভিকে জানায়, গত ২৭ মে মাদ্রাজ হাইকোর্টের ওই আদেশ ১৯৫৮ সালের তামিলনাড়ু অ্যানিমাল প্রিজারভেশন অ্যাক্টের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ওই আইনে ১০ বছরের বেশি বয়সী এবং কাজ ও প্রজননের জন্য অনুপযুক্ত হিসেবে প্রত্যয়িত গরু জবাইয়ের অনুমতি রয়েছে। কিন্তু হাইকোর্ট আইনের বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বলে দাবি করা হয়।

তামিলনাড়ু সরকার জানায়, হাইকোর্টে করা মূল আবেদনে শুধু কোয়েম্বাটুরে কোরবানির ঈদের সময় প্রকাশ্যে পশু জবাই বন্ধের আবেদন করা হয়েছিল। তবে আদালত পুরো রাজ্যজুড়ে গরু জবাই নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেয়, যদিও এমন কোনো বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হয়নি।

আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেয়—কোরবানির ঈদের আগের দিন বা বছরের অন্য যেকোনো দিন যেন কোনো গরু বা বাছুর জবাই না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতি বছর কোরবানির ঈদের সময় মুসলমানরা স্থানীয় নিয়ম মেনে ব্যক্তিগত জায়গা ও ধর্মীয় সমাবেশে পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন। এই রায় শুধু কোরবানির ঈদকেই প্রভাবিত করবে না, বরং তামিলনাড়ুর অনেক হিন্দু মন্দিরে বার্ষিক উৎসবে পশুবলির প্রচলিত প্রথাকেও প্রভাবিত করতে পারে।

এদিকে বিরোধীরা অভিযোগ করেছে, এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে টিভিকে সরকার দেরি করেছে।

ডিএমকে মুখপাত্র ড. সৈয়দ হাফিজুল্লাহ এনডিটিভিকে বলেন, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য কসাইখানা ব্যবহার কার্যকর হবে না, কারণ সেখানে আগেই জায়গার সংকট রয়েছে। ধর্মীয় সমাবেশে পশু জবাইয়ের এই প্রথা আইনিভাবেই স্বীকৃত। শুধু মুসলমানরা নন, এখন হিন্দুরাও মন্দিরে পশুবলি দিতে পারবেন না। তাহলে এই পরিবর্তন কেন করা হলো—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, কেউ দুধ দেওয়া গরু জবাই করে না, কারণ এতে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়। কেউ বাছুরও হত্যা করে না। এই আদেশে ষাঁড়, বলদ ও মহিষ জবাইও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এমএমকের সভাপতি এম. এইচ. জওহিরুল্লাহ এই রায়কে বেদনাদায়ক এবং ধর্মীয় অনুশীলনে কঠোর হস্তক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন।

তার দাবি, এই আদেশ সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছে, যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের ধর্ম পালনের ও চর্চার স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে।

টিভিকের একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে দেরি হওয়ায় তারা আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করার জন্য কিছু সময় নিয়েছিল।