ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই, ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩০০, আহত ১১ হাজার

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬, ১০:৫৩ এএম
ছবি : সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ৩০০ জনে পৌঁছেছে। দেশটিতে ভূমিকম্প আঘাত হানার এক সপ্তাহ পূর্তির দিনে গত বুধবার গভীর রাতে এ হালনাগাদ তথ্য জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

ভেনেজুয়েলার জাতীয় সংসদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রায় ১৩ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। এদিকে জাতিসংঘের প্রাথমিক হিসাবে, প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি দেলসি রদ্রিগেজ সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই মানবিক বিপর্যয়ে দেশের আত্মা যেন ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে।’

সংশোধিত হতাহতের এই পরিসংখ্যান আধুনিক ইতিহাসে ভেনেজুয়েলায় সংঘটিত সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর একটি হিসেবে এ ভূমিকম্পের ব্যাপকতা তুলে ধরছে।

গত ২৪ জুন উত্তর ভেনেজুয়েলায় ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও উদ্ধারকারী দলগুলো এখনো ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।

ভূমিকম্পে লা গুয়াইরাসহ উপকূলীয় এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজধানী কারাকাসেরও বেশ কিছু অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করার পাশাপাশি বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে হাজার হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। বাস্তুচ্যুতি, ঘরবাড়ি ধ্বংস এবং বিদ্যুৎ, পানি ও স্বাস্থ্যসেবাসহ জরুরি সেবার ব্যাপক ক্ষতির কারণে লাখো মানুষ মানবিক সংকটে পড়েছেন।

এদিকে ভূমিকম্পের পর দেশটিতে মানবিক সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংকটের মধ্যে বিপুলসংখ্যক আহত ব্যক্তির চিকিৎসা দিতে গিয়ে হাসপাতালগুলো হিমশিম খাচ্ছে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলো দূষিত পানি, অস্বাস্থ্যকর স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং অতিরিক্ত ভিড়ের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছে।

বিশ্বের কয়েক ডজন দেশের আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করছে। বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল, ফিল্ড হাসপাতাল এবং জরুরি ত্রাণসামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছেছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার আশা দিন দিন ক্ষীণ হয়ে আসছে।

সাম্প্রতিক কয়েকটি সফল উদ্ধার অভিযানের পরও কর্মকর্তারা বলছেন, পরিস্থিতি এখন ধীরে ধীরে উদ্ধার কার্যক্রম থেকে পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন পর্যায়ে প্রবেশ করছে।

জোড়া ভূমিকম্পে বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ও জরুরি দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতার দীর্ঘদিনের দুর্বলতাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পুনর্গঠন এবং স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।